রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগে ‘না’: বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানে বাদ পড়লেন তিন আলোচিত মুখ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শুরু হওয়া লামিয়া মোর্শেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান এবং সাবেক সচিব সেলিম উদ্দিনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করেছে বর্তমান সরকার। চলতি মাসের শুরুতে ৫টি দেশ থেকে রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সময় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
লামিয়া মোর্শেদ ও নেদারল্যান্ডস অধ্যায় ইউনূস প্রশাসনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লামিয়া মোর্শেদকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছিল। ডাচ সরকারের কাছে এ সংক্রান্ত ‘এগ্রিমো’ বা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছিল। তবে গত বছরের নভেম্বরে বিষয়টি জানাজানি হলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। নেদারল্যান্ডস সরকারের পক্ষ থেকেও এই প্রস্তাবের কোনো ইতিবাচক সাড়া না আসায় শেষ পর্যন্ত তাঁর নিয়োগ ঝুলে যায়।
ড. নিয়াজ ও ইরানের অনাগ্রহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খানকে প্রথমে ডেনমার্কের জন্য প্রস্তাব করা হলেও বিতর্ক ওঠায় তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ইরান সরকার তাঁকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে গ্রহণের সবুজ সংকেত দিলেও যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে যেতে আগ্রহী ছিলেন না ড. নিয়াজ। সূত্র জানায়, পদটি নিশ্চিত করতে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুলশান কার্যালয়েও সাক্ষাৎ করেছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; বর্তমানে তিনি ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় ডেনমার্কে যাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
সেলিম উদ্দিন ও মিশরের নীরবতা সাবেক বাণিজ্য সচিব সেলিম উদ্দিনকে মিশরের কায়রোতে পাঠানোর জন্য গত বছরের অক্টোবরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে কায়রো থেকে কোনো জবাব না আসায় তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়াটিও ভেস্তে যায়।
পেশাদার কূটনীতিকদের অগ্রাধিকার বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর নেদারল্যান্ডসে রাজনৈতিক নিয়োগের বদলে পেশাদার কূটনীতিক ফাইয়াজ মুর্শিদ কাজীকে নিয়োগ দিয়েছেন। থাইল্যান্ডে কর্মরত এই অভিজ্ঞ কূটনীতিকের বিষয়ে ডাচ সরকার ইতিবাচক সাড়াও দিয়েছে। আগামী মে-জুনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনের পর তিনি হেগে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
সরকারের অনড় অবস্থান রাজনৈতিক বিবেচনায় এই তিনজনের নিয়োগ বাতিল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, আগের সরকারের সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া রাষ্ট্রদূত নিয়োগের মতো বিষয়গুলো পুনরায় বিবেচনা করার কোনো পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের নেই। সরকার এখন পেশাদারিত্ব এবং অভিজ্ঞ কূটনীতিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।





















