০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: চট্টগ্রামে ৩৫ দিনে বাতিল ২৪৫ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, চরম বিপাকে প্রবাসীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক আকাশপথে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামের আকাশপথে। চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মাত্র ৩৫ দিনের ব্যবধানে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাতিল হয়েছে মোট ২৪৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত এই নজিরবিহীন বিপর্যয়ের কারণে প্রবাসীদের চিরচেনা ট্রানজিট পয়েন্টটিতে এখন সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে।

শুক্রবারও বাতিল ৬ ফ্লাইট

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের অবাধ বিচরণের কারণে বেসামরিক বিমান চলাচলের রুটগুলো চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নতুন করে মধ্যপ্রাচ্য রুটের আরও ৬টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ২টি এবং সালাম এয়ারের ২টি ফ্লাইট। ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা, দুবাই, আবুধাবি এবং ওমানগামী শিডিউলগুলো সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

চরম ভোগান্তিতে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা

একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা হাজার হাজার প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা। জরুরি ছুটিতে দেশে এসে অনেকেই এখন আটকা পড়েছেন। আবার অনেকেরই নতুন ভিসায় কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া কিংবা নতুন শিডিউল পাওয়া নিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন তারা।

কী বলছে কর্তৃপক্ষ?

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, “যুদ্ধের উত্তাপ সরাসরি যাত্রী পরিষেবায় এসে পড়ায় কয়েক হাজার প্রবাসী ও পর্যটক চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। যুদ্ধাবস্থার কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত শাহ আমানত বিমানবন্দরে মোট ২৪৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।”

পরিস্থিতির কবে উন্নতি হবে এবং আকাশপথ কবে সাধারণ ফ্লাইটের জন্য নিরাপদ হবে, সেদিকেই এখন তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে আছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী যাত্রীরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১২:০২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
৬৬ Time View

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: চট্টগ্রামে ৩৫ দিনে বাতিল ২৪৫ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, চরম বিপাকে প্রবাসীরা

Update Time : ১২:০২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক আকাশপথে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামের আকাশপথে। চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মাত্র ৩৫ দিনের ব্যবধানে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাতিল হয়েছে মোট ২৪৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত এই নজিরবিহীন বিপর্যয়ের কারণে প্রবাসীদের চিরচেনা ট্রানজিট পয়েন্টটিতে এখন সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে।

শুক্রবারও বাতিল ৬ ফ্লাইট

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের অবাধ বিচরণের কারণে বেসামরিক বিমান চলাচলের রুটগুলো চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নতুন করে মধ্যপ্রাচ্য রুটের আরও ৬টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ২টি এবং সালাম এয়ারের ২টি ফ্লাইট। ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা, দুবাই, আবুধাবি এবং ওমানগামী শিডিউলগুলো সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

চরম ভোগান্তিতে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা

একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা হাজার হাজার প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা। জরুরি ছুটিতে দেশে এসে অনেকেই এখন আটকা পড়েছেন। আবার অনেকেরই নতুন ভিসায় কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া কিংবা নতুন শিডিউল পাওয়া নিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন তারা।

কী বলছে কর্তৃপক্ষ?

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, “যুদ্ধের উত্তাপ সরাসরি যাত্রী পরিষেবায় এসে পড়ায় কয়েক হাজার প্রবাসী ও পর্যটক চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। যুদ্ধাবস্থার কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত শাহ আমানত বিমানবন্দরে মোট ২৪৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।”

পরিস্থিতির কবে উন্নতি হবে এবং আকাশপথ কবে সাধারণ ফ্লাইটের জন্য নিরাপদ হবে, সেদিকেই এখন তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে আছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী যাত্রীরা।