আত্মগোপনে ছিলেন শিরীন শারমিন, লালবাগের মামলায় গ্রেপ্তার দেখাচ্ছে ডিবি
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনায় রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখাচ্ছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোরে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে আটকের পর তাকে এই মামলায় আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছে।
নানা স্থানে আত্মগোপন
ডিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে সাবেক এই স্পিকার দেশের বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখান থেকেই আজ ভোরে তাকে আটক করা হয়।
উল্লেখ্য, গণ-অভ্যুত্থানের পর সেনা হেফাজতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের যে তালিকা আইএসপিআর প্রকাশ করেছিল, সেখানেও শিরীন শারমিনের নাম ছিল।
৬টি মামলার তথ্য, ৩টি তদন্তাধীন
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানকালীন সংঘটিত হত্যা মামলাসহ মোট ৬টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় ইতিমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করার তথ্য মিলেছে। বাকি তিনটি মামলার তদন্ত এখনো চলমান।
ডিবি কর্মকর্তা আরও জানান, লালবাগ থানার মামলায় তাকে আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে। গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন সংঘর্ষের ঘটনায় তার ইন্ধন বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
টানা এক দশক স্পিকারের দায়িত্ব ও পদত্যাগ
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্পিকার হন আবদুল হামিদ। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর থেকে টানা এক দশকের বেশি সময় তিনি এই পদে আসীন ছিলেন। তবে গণ-অভ্যুত্থানে সরকারের পতনের ২৭ দিনের মাথায়, গত ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট সংসদের তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার শামসুল হককেও খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকার একটি বাসা থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।





















