লন্ডনে গিয়ে জুলাই আন্দোলনের ‘ট্রফি’ তারেক রহমানকে দিয়েছেন ড. ইউনূস: সংসদে শাহে আলম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দেশের তিনটি ঐতিহাসিক আন্দোলন—১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ‘ট্রফি’ বিএনপির ঘরে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে জুলাই আন্দোলনের ট্রফি বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল ও উত্তাপ ছড়ায়।

‘ক্যাপ্টেনের কাছে গিয়ে নির্বাচনের তারিখ আনেন ড. ইউনূস’
জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি বিএনপির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শাহে আলম বলেন, “জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে আমরা সবাই ছিলাম। আমরা কারও কাছে ট্রফি নিতে যাইনি। ওই সময়ের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে আমাদের ক্যাপ্টেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ট্রফি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আসেন। এতেই প্রমাণিত হয়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের নেতৃত্বে মূল ভূমিকা কোন দলের এবং কোন নেতার ছিল।”
বগুড়া থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, “এ দেশের তিনটি বড় আন্দোলনের ট্রফি শুধু বিএনপির ঘরে। অন্য কোনো দল এটি দেখাতে পারবে না। আওয়ামী লীগ একাত্তর ও নব্বইয়ের কথা বলতে পারবে, কিন্তু জুলাইয়ের ট্রফি তাদের নেই। আবার বিরোধী দলের বন্ধুরা জুলাইয়ের কথা বলতে পারবে, কিন্তু একাত্তর ও নব্বইয়ের কথা বলতে পারবে না।”
জামায়াতকে নিশানা ও সংসদে হট্টগোল
বক্তব্যের এক পর্যায়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া বিরোধী দলের এমপিদের গাড়িতে পতাকা দিয়ে সরকারের অংশ করে জাতির কাছে সম্মানিত করেছিলেন। সে কথা তো আপনারা একবারও বলেন না। ২০১৪ সালের পর আপনাদের আর খুঁজেই পাওয়া যায়নি।”
জামায়াত এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন যে, কোনো এক অজানা কারণে জুলাই-আগস্টের পর প্রকাশ্যে এসে তারা পুরো আন্দোলনকে নিজেদের বলে ভুল বোঝাতে চাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ‘অসত্য’, এক্সপাঞ্জ করার দাবি বিরোধীদের
প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের বক্তব্যের সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা বারবার প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠেন। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য অসংখ্য অসত্য তথ্য এখানে উপস্থাপন করেছেন। আমাদের দাবি, অসত্য কোনো তথ্য যাতে সংসদে কেউ পরিবেশন না করেন।” তিনি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের কিছু অংশ সংসদের কার্যপ্রণালি থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার আহ্বান জানান।
স্পিকারের রুলিং
হট্টগোলের এক পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধী দলের বেঞ্চেও মুক্তিযোদ্ধারা রয়েছেন বলে প্রতিমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে সাতক্ষীরা-৩ আসনের গাজী নজরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতার এক্সপাঞ্জ দাবির প্রেক্ষিতে স্পিকার বলেন, “আমি বক্তব্য পরীক্ষা করে দেখব। সেখানে কোনো অসংসদীয় এবং অসত্য তথ্য থাকলে তা এক্সপাঞ্জ (বাদ) করা হবে।” এরপর তিনি অতীত ভুলে সবাইকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।





















