বিরোধী দলের তীব্র আপত্তির মুখে মানবাধিকার কমিশন বিল পাস, ফিরল ২০০৯ সালের আইন
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভের মধ্যেই জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬’। এই বিল পাসের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে গেল এবং পুনরায় চালু হলো ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রণীত ২০০৯ সালের আইন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করেন এবং তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহর তীব্র বিরোধিতা ও শঙ্কা
বিলটি উত্থাপনের পর কুমিল্লা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ) এর তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে গেলেও তিনি বিলটি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “অধ্যাদেশটি বাতিল করার মধ্য দিয়ে মানবাধিকার কমিশনকে পুনরায় রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।” তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে হয়তো আজ এটি বাতিল করা হচ্ছে, কিন্তু ভবিষ্যতে এই সংসদে একটি স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল পাস হবেই।
‘চেয়ার ও ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্টেছে অবস্থান’
সরকারি দলের বর্তমান অবস্থানের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আজকে যাঁরা সরকারি বেঞ্চে রয়েছেন, চব্বিশের জুলাইয়ের আগে হলে তাঁরাই এই অধ্যাদেশ পাসের পক্ষে থাকতেন। আজকে সময় পাল্টেছে, ঋতু পরিবর্তন হয়েছে, চেয়ার পরিবর্তন হয়েছে। আপনারা ওই পাশে (সরকারি দলে) গিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েছেন, আর তাই আজকে এই বিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এই অবস্থান নৈতিকতার দিক থেকে টেক্সটবুক এক্সাম্পল হয়ে থাকবে।”
‘এটি বিরোধী দল ও মত দমন কমিশন’
২০০৯ সালের আইনের তীব্র সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, এই আইনের মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশনকে মূলত সরকারি আরেকটি দপ্তরে পরিণত করা হয়েছে। স্পিকারের নেতৃত্বে যে ‘সিলেকশন কমিটি’ করা হয়, তার ছয় সদস্যের পাঁচজনই সরকারদলীয়।
বিএনপি মহাসচিব ও বর্তমান এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের অতীতের একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করে হাসনাত বলেন, “এটি ‘বিরোধী দল দমন কমিশন’ হিসেবে কাজ করে। এই আইনে কোনো সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গেলে সরকারেরই পূর্বানুমতি লাগে। সরকার নিজেই যেখানে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করে, সেখানে তাদের অনুমতি নিয়ে তদন্ত কতটা স্বচ্ছ হবে, তা সবারই জানা।”
বিরোধীদলীয় নেতার সমর্থন ও স্পিকারের রুলিং
হাসনাত আবদুল্লাহর নির্ধারিত চার মিনিট সময় শেষ হয়ে গেলে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে আলোচনার জন্য আরও সময় দাবি করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি স্বচ্ছ রাজনীতি ও মানুষের জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। স্পিকার শুরুতে এর জবাব দিলেও পরে হাসনাতকে আরও দুই মিনিট কথা বলার সুযোগ দেন।
হাসনাত তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, এই অধ্যাদেশটি বাতিলের ফলে গুম অধ্যাদেশ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দায়মুক্তির অধ্যাদেশ দুটিও স্রেফ ‘অর্নামেন্টাল’ বা অলংকারিক হয়ে পড়বে, যা জাতিকে আবার পেছনের দিকে নিয়ে যাবে।





















