০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুর অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তি: তিন আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে সাত বছরের এক শিশুকে অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তির করানোর দায়ে তিন জনের আমৃত্যু কারদণ্ডসহ পাঁচজনকে সাজা দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় দেন। দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সালাউদ্দিন, মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান মিয়া এবং খন্দকার ওমর ফারুক। ঘটনার সময় শিশু বয়স বিবেচনায় দুই জনকে দেওয়া হয়েছে ১০ বছর করে কারাদণ্ড। আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শরিফুল ইসলাম ও খন্দকার ওমর ফারুক কারাগারে আছেন। অপর সাজাপ্রাপ্তরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ৬ মে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে সাত বছরের শিশুকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় আসামিরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিশুটিকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করে। এই উদ্দেশ্যে তারা নির্জন স্থানে নিয়ে শিশুটির লিঙ্গ কর্তন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র ও ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে শিশুটির মা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় এ মামলাটি করেন।

২০১১ সালের ১৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১ এর সহকারী পরিচালক এএসপি মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। মামলাটির বিচারকালে ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৮:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
১২৬ Time View

শিশুর অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তি: তিন আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

Update Time : ০৮:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে সাত বছরের এক শিশুকে অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তির করানোর দায়ে তিন জনের আমৃত্যু কারদণ্ডসহ পাঁচজনকে সাজা দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় দেন। দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সালাউদ্দিন, মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান মিয়া এবং খন্দকার ওমর ফারুক। ঘটনার সময় শিশু বয়স বিবেচনায় দুই জনকে দেওয়া হয়েছে ১০ বছর করে কারাদণ্ড। আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শরিফুল ইসলাম ও খন্দকার ওমর ফারুক কারাগারে আছেন। অপর সাজাপ্রাপ্তরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ৬ মে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে সাত বছরের শিশুকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় আসামিরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিশুটিকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করে। এই উদ্দেশ্যে তারা নির্জন স্থানে নিয়ে শিশুটির লিঙ্গ কর্তন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র ও ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে শিশুটির মা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় এ মামলাটি করেন।

২০১১ সালের ১৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১ এর সহকারী পরিচালক এএসপি মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। মামলাটির বিচারকালে ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।