০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুম ও মানবাধিকার কমিশনসহ ৭ অধ্যাদেশ নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা জরুরি: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, বিচারক নিয়োগ এবং গুম কমিশনসহ মোট ৭টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নিয়ে অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে আলোচনা জরুরি বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট করেছেন, অধিকতর যাচাই-বাছাই ও সবার মতামতের ভিত্তিতে এসব বিষয়ে কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করা হবে।

রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদে ৯১টি বিল পাসসহ বিভিন্ন আইন ও অধ্যাদেশ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরতে এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

গুম কমিশন অধ্যাদেশে রয়েছে ফাঁকফোকর

গুম কমিশন অধ্যাদেশের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান খসড়ায় কিছু ফাঁকফোকর রয়ে গেছে। এর ফলে গুমের সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং ঘটনা শনাক্ত করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে, যা নতুন করে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এসব সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা সংশোধন করেই গুম কমিশন নিয়ে একটি নিখুঁত আইন প্রণয়ন করা হবে।

মানবাধিকার কমিশন নিয়ে আলোচনা মে মাসের পর

মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমান খসড়ার তদন্ত ক্ষমতা, জরিমানা আরোপসহ কয়েকটি ধারায় কিছু সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে। সেগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করে একটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর আইন তৈরি করা হবে। এ লক্ষ্যে আগামী ১৫ মের পর অংশীজনদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

‘বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, সরকার কিছু গোপন করছে না’

আইনমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সরকার দেশবাসীর কাছে কোনো বিষয় গোপন করছে না। ‘অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে’ মর্মে যে দাবি উঠেছে, তা একেবারেই সঠিক নয়। যারা এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন, তারা মূলত জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

তিনি বিরোধী দলের সমালোচনা করে বলেন, “সংসদে আলোচনার সময় বিরোধী দলের কিছু সদস্য নথিপত্র পর্যালোচনা করলেও সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছেন।”

অংশীজনদের সুচিন্তিত মতামত গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমেই এই অধ্যাদেশগুলোকে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপ দেওয়া হবে বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন আইনমন্ত্রী।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৯:৪০:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
৬৫ Time View

গুম ও মানবাধিকার কমিশনসহ ৭ অধ্যাদেশ নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা জরুরি: আইনমন্ত্রী

Update Time : ০৯:৪০:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, বিচারক নিয়োগ এবং গুম কমিশনসহ মোট ৭টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নিয়ে অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে আলোচনা জরুরি বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট করেছেন, অধিকতর যাচাই-বাছাই ও সবার মতামতের ভিত্তিতে এসব বিষয়ে কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করা হবে।

রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদে ৯১টি বিল পাসসহ বিভিন্ন আইন ও অধ্যাদেশ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরতে এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

গুম কমিশন অধ্যাদেশে রয়েছে ফাঁকফোকর

গুম কমিশন অধ্যাদেশের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান খসড়ায় কিছু ফাঁকফোকর রয়ে গেছে। এর ফলে গুমের সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং ঘটনা শনাক্ত করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে, যা নতুন করে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এসব সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা সংশোধন করেই গুম কমিশন নিয়ে একটি নিখুঁত আইন প্রণয়ন করা হবে।

মানবাধিকার কমিশন নিয়ে আলোচনা মে মাসের পর

মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমান খসড়ার তদন্ত ক্ষমতা, জরিমানা আরোপসহ কয়েকটি ধারায় কিছু সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে। সেগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করে একটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর আইন তৈরি করা হবে। এ লক্ষ্যে আগামী ১৫ মের পর অংশীজনদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

‘বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, সরকার কিছু গোপন করছে না’

আইনমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সরকার দেশবাসীর কাছে কোনো বিষয় গোপন করছে না। ‘অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে’ মর্মে যে দাবি উঠেছে, তা একেবারেই সঠিক নয়। যারা এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন, তারা মূলত জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

তিনি বিরোধী দলের সমালোচনা করে বলেন, “সংসদে আলোচনার সময় বিরোধী দলের কিছু সদস্য নথিপত্র পর্যালোচনা করলেও সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছেন।”

অংশীজনদের সুচিন্তিত মতামত গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমেই এই অধ্যাদেশগুলোকে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপ দেওয়া হবে বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন আইনমন্ত্রী।