০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: অসদুপায় ঠেকাতে থাকছে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা নীরব বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা আসন্ন ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় শৃঙ্খলা ও শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘নীরব বহিষ্কার’ বা ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ ব্যবস্থা কার্যকর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। সম্প্রতি প্রকাশিত পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত এক নীতিমালায় এই কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষার হলে কোনো পরীক্ষার্থীকে সরাসরি হাতেনাতে আটক না করেও নিয়ম ভঙ্গ বা অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ করা যাবে। এর ফলে পরীক্ষার্থী তাৎক্ষণিকভাবে টেরই পাবেন না যে তিনি বহিষ্কৃত হয়েছেন; কিন্তু পরবর্তীতে তার ওই বিষয়ের উত্তরপত্রটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

‘নীরব বহিষ্কার’ আসলে কী?

পরীক্ষার হলে কোনো পরীক্ষার্থী যদি কথা বলে, ঘাড় ঘোরায়, অন্যের খাতা দেখে বা সন্দেহজনক কোনো আচরণ করে, তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক (ইনভিজিলিয়েটর) তার বিরুদ্ধে ‘নীরব বহিষ্কার’ প্রয়োগ করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ায় প্রকাশ্যে পরীক্ষার্থীকে কিছু বলা হবে না বা হল থেকে বের করে দেওয়া হবে না। তবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্রটি পরে বাতিল করে দেওয়া হবে।

উত্তরপত্র জমার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার বা নীরব বহিষ্কার করা হলে তার সৃজনশীল উত্তরপত্রের কাভার পৃষ্ঠার প্রথম অংশ ছেঁড়া যাবে না। এর পরিবর্তে, প্রত্যবেক্ষকের প্রতিবেদনের সঙ্গে বোর্ড নির্ধারিত একটি গোপনীয় ফরম পূরণ করতে হবে।

পরীক্ষা শেষে ওই পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্রটি আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষণ করতে হবে। প্যাকেটের ওপর লাল কালিতে স্পষ্টভাবে ‘রিপোর্টেড’ (Reported) লিখে অন্যান্য সাধারণ উত্তরপত্র থেকে সম্পূর্ণ পৃথকভাবে তা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া, ঠিক কী কারণে নীরব বহিষ্কার করা হয়েছে, তা প্রত্যবেক্ষককে তাঁর প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে।

পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে কি অংশ নেওয়া যাবে?

নীতিমালায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সাইলেন্ট এক্সপেল হওয়া পরীক্ষার্থীরা চাইলে তাদের পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিতে পারবে। তবে এর একটি শর্ত রয়েছে— পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও তার সব উত্তরপত্র আলাদাভাবে জমা দিতে হবে। প্রতিটির সঙ্গেই নীরব বহিষ্কারের বিষয়, পত্র ও কারণ উল্লেখ করে আলাদা প্রতিবেদন সংযুক্ত করতে হবে।

শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরীক্ষার হলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের অসদুপায় বা নকল রোধে এই ‘নীরব বহিষ্কার’ পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১১:৩৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
৭৪ Time View

এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: অসদুপায় ঠেকাতে থাকছে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা নীরব বহিষ্কার

Update Time : ১১:৩৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা আসন্ন ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় শৃঙ্খলা ও শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘নীরব বহিষ্কার’ বা ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ ব্যবস্থা কার্যকর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। সম্প্রতি প্রকাশিত পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত এক নীতিমালায় এই কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষার হলে কোনো পরীক্ষার্থীকে সরাসরি হাতেনাতে আটক না করেও নিয়ম ভঙ্গ বা অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ করা যাবে। এর ফলে পরীক্ষার্থী তাৎক্ষণিকভাবে টেরই পাবেন না যে তিনি বহিষ্কৃত হয়েছেন; কিন্তু পরবর্তীতে তার ওই বিষয়ের উত্তরপত্রটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

‘নীরব বহিষ্কার’ আসলে কী?

পরীক্ষার হলে কোনো পরীক্ষার্থী যদি কথা বলে, ঘাড় ঘোরায়, অন্যের খাতা দেখে বা সন্দেহজনক কোনো আচরণ করে, তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক (ইনভিজিলিয়েটর) তার বিরুদ্ধে ‘নীরব বহিষ্কার’ প্রয়োগ করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ায় প্রকাশ্যে পরীক্ষার্থীকে কিছু বলা হবে না বা হল থেকে বের করে দেওয়া হবে না। তবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্রটি পরে বাতিল করে দেওয়া হবে।

উত্তরপত্র জমার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার বা নীরব বহিষ্কার করা হলে তার সৃজনশীল উত্তরপত্রের কাভার পৃষ্ঠার প্রথম অংশ ছেঁড়া যাবে না। এর পরিবর্তে, প্রত্যবেক্ষকের প্রতিবেদনের সঙ্গে বোর্ড নির্ধারিত একটি গোপনীয় ফরম পূরণ করতে হবে।

পরীক্ষা শেষে ওই পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্রটি আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষণ করতে হবে। প্যাকেটের ওপর লাল কালিতে স্পষ্টভাবে ‘রিপোর্টেড’ (Reported) লিখে অন্যান্য সাধারণ উত্তরপত্র থেকে সম্পূর্ণ পৃথকভাবে তা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া, ঠিক কী কারণে নীরব বহিষ্কার করা হয়েছে, তা প্রত্যবেক্ষককে তাঁর প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে।

পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে কি অংশ নেওয়া যাবে?

নীতিমালায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সাইলেন্ট এক্সপেল হওয়া পরীক্ষার্থীরা চাইলে তাদের পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিতে পারবে। তবে এর একটি শর্ত রয়েছে— পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও তার সব উত্তরপত্র আলাদাভাবে জমা দিতে হবে। প্রতিটির সঙ্গেই নীরব বহিষ্কারের বিষয়, পত্র ও কারণ উল্লেখ করে আলাদা প্রতিবেদন সংযুক্ত করতে হবে।

শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরীক্ষার হলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের অসদুপায় বা নকল রোধে এই ‘নীরব বহিষ্কার’ পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।