০৬:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা থেকে সাড়ে ৬ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা এবং ভারতীয় তালিকা থেকে মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম বাতিল করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অমুক্তিযোদ্ধা শনাক্তকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া

সংসদে মন্ত্রী জানান, অমুক্তিযোদ্ধা শনাক্তকরণ কোনো সাময়িক কাজ নয়, বরং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক অমুক্তিযোদ্ধা ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে ভারতের তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার।

আগস্টের পর ৪৮১ জনের সনদ বাতিলের সুপারিশ

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে জানান:

  • গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮৪২টি অমুক্তিযোদ্ধাসংক্রান্ত অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে।
  • এর মধ্যে তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা বাতিল করার চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে।

যে প্রক্রিয়ায় বাতিল হচ্ছে সনদ

সনদ বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর জামুকার উপকমিটি সরাসরি তদন্ত ও শুনানি পরিচালনা করে। শুনানিতে কেউ অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের সনদ ও রাষ্ট্রীয় যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করা হয়।

তিনি আরও আশ্বস্ত করেন, রংপুর-৪ আসনসহ দেশের যেকোনো প্রান্তের অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে একই প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তালিকা স্বচ্ছ করার এই কাজ অব্যাহত থাকবে। মন্ত্রী জানান, এর আগে জামুকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধাপে ধাপে বাদ পড়া ৬ হাজার ৪৭৬ জনের মধ্যে একটি বড় অংশই ছিলেন ভারতীয় তালিকার অপব্যবহারকারী।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১২:৩১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
৪৯ Time View

লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা থেকে সাড়ে ৬ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বাদ

Update Time : ১২:৩১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা এবং ভারতীয় তালিকা থেকে মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম বাতিল করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অমুক্তিযোদ্ধা শনাক্তকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া

সংসদে মন্ত্রী জানান, অমুক্তিযোদ্ধা শনাক্তকরণ কোনো সাময়িক কাজ নয়, বরং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক অমুক্তিযোদ্ধা ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে ভারতের তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার।

আগস্টের পর ৪৮১ জনের সনদ বাতিলের সুপারিশ

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে জানান:

  • গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮৪২টি অমুক্তিযোদ্ধাসংক্রান্ত অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে।
  • এর মধ্যে তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা বাতিল করার চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে।

যে প্রক্রিয়ায় বাতিল হচ্ছে সনদ

সনদ বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর জামুকার উপকমিটি সরাসরি তদন্ত ও শুনানি পরিচালনা করে। শুনানিতে কেউ অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের সনদ ও রাষ্ট্রীয় যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করা হয়।

তিনি আরও আশ্বস্ত করেন, রংপুর-৪ আসনসহ দেশের যেকোনো প্রান্তের অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে একই প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তালিকা স্বচ্ছ করার এই কাজ অব্যাহত থাকবে। মন্ত্রী জানান, এর আগে জামুকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধাপে ধাপে বাদ পড়া ৬ হাজার ৪৭৬ জনের মধ্যে একটি বড় অংশই ছিলেন ভারতীয় তালিকার অপব্যবহারকারী।