হামের টিকা না দেওয়াকে ‘ক্ষমাহীন ব্যর্থতা’ বললেন প্রধানমন্ত্রী
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অতীতে সারা দেশে শিশুদের হামের টিকা না দেওয়া ছিল বিগত দুই সরকারের একটি ‘জীবনবিনাশী ব্যর্থতা’, যা ক্ষমার অযোগ্য। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি এ জন্য চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং যেসব পরিবার সন্তান হারিয়েছে, তাদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দেশের সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে জবাবদিহির আওতায় এনে সেবার মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বর্তমানে উন্নত চিকিৎসাসেবা ঢাকাকেন্দ্রিক হলেও ধাপে ধাপে জেলা ও উপজেলায় তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে, যাতে শহর-গ্রামের বৈষম্য কমে আসে।
চিকিৎসা পেশার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোগীদের জন্য চিকিৎসকের মানবিক আচরণ অনেক সময় ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর। তাই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিরোধ চিকিৎসার চেয়ে উত্তম’—এই নীতিকে সামনে রেখে সরকার কাজ করছে। সংক্রামক ও অসংক্রামক উভয় ধরনের রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিটি উপজেলা এবং পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ে তোলা হবে। এসব ইউনিটে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রায় এক লাখ ‘হেলথ কেয়ারার’ নিয়োগ দেওয়া হবে, যার বেশিরভাগই নারী।
এছাড়া, একটি সমন্বিত ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে নাগরিকদের স্বাস্থ্যতথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকবে এবং যেকোনো হাসপাতালে সহজে চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে কেউ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
সবশেষে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, নিজ নিজ এলাকায় জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও টেকসই স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার নেতৃত্ব দিতে হবে এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে একটি আদর্শ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রূপান্তর করতে হবে।




















