০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংরক্ষিত নারী আসন: গোপালগঞ্জে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী, শুরু তুমুল বিতর্ক

সুবর্ণা ঠাকুর। ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়নকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি ঘটনা। উপজেলা পর্যায়ের একজন সক্রিয় আওয়ামী লীগ নেত্রীকে বিএনপির প্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—এমন খবরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

মনোনীত নেত্রীর নাম সুবর্ণা ঠাকুর। তিনি কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর নাম প্রকাশ করলে ওই তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় স্থানীয় রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

সুবর্ণা ঠাকুর কাশিয়ানীর শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং পেশায় একজন শিক্ষক। জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের পর ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত কমিটিতেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

একজন বর্তমান আওয়ামী লীগ নেত্রীকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—তিনি কি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন, নাকি সরাসরি বিএনপির হয়ে মনোনয়ন পেয়েছেন?

এদিকে, এ সিদ্ধান্তে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির ভেতরেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ বিষয়টিকে অপ্রত্যাশিত বলে উল্লেখ করেছেন। জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা শরিফুল ইসলাম রোমান সামাজিক মাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করে লেখেন, দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা নেত্রীদের মূল্যায়ন না করে অন্য দলের একজন নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া প্রশ্নের জন্ম দেয়।

অন্যদিকে, টিটো বৈদ্য বিষয়টিকে বিএনপির দুর্বলতার প্রতিফলন হিসেবে মন্তব্য করেছেন। গোপালগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেত্রীদের বাদ দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের একজন নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া দলীয় কর্মীদের জন্য হতাশাজনক।

ঘটনাটি ঘিরে এখনো রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৩:২৭:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
১৫২ Time View

সংরক্ষিত নারী আসন: গোপালগঞ্জে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী, শুরু তুমুল বিতর্ক

Update Time : ০৩:২৭:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

গোপালগঞ্জে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়নকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি ঘটনা। উপজেলা পর্যায়ের একজন সক্রিয় আওয়ামী লীগ নেত্রীকে বিএনপির প্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—এমন খবরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

মনোনীত নেত্রীর নাম সুবর্ণা ঠাকুর। তিনি কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর নাম প্রকাশ করলে ওই তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় স্থানীয় রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

সুবর্ণা ঠাকুর কাশিয়ানীর শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং পেশায় একজন শিক্ষক। জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের পর ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত কমিটিতেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

একজন বর্তমান আওয়ামী লীগ নেত্রীকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—তিনি কি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন, নাকি সরাসরি বিএনপির হয়ে মনোনয়ন পেয়েছেন?

এদিকে, এ সিদ্ধান্তে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির ভেতরেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ বিষয়টিকে অপ্রত্যাশিত বলে উল্লেখ করেছেন। জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা শরিফুল ইসলাম রোমান সামাজিক মাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করে লেখেন, দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা নেত্রীদের মূল্যায়ন না করে অন্য দলের একজন নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া প্রশ্নের জন্ম দেয়।

অন্যদিকে, টিটো বৈদ্য বিষয়টিকে বিএনপির দুর্বলতার প্রতিফলন হিসেবে মন্তব্য করেছেন। গোপালগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেত্রীদের বাদ দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের একজন নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া দলীয় কর্মীদের জন্য হতাশাজনক।

ঘটনাটি ঘিরে এখনো রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।