০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ‘শব্দের রাজনীতি’ : মিতু

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেছেন, ‘শব্দের রাজনীতি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। কারণ আমি জানি, শব্দের শেষটা রক্তে গিয়ে থামে। আর রক্ত দেখতে ইচ্ছা করে না। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, এই ভাষা এখন শুধু রাস্তায় না পার্লামেন্টে, নেতৃত্বের বক্তব্যে, শিক্ষাঙ্গনের দেয়ালে জায়গা করে নিচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেছেন তিনি।


ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেন, ‘শব্দের রাজনীতি’ কোনো সাধারণ বিষয় নয়। অতীতে এসব শব্দ ব্যবহার করে মানুষকে চিহ্নিত করা হয়েছে, আলাদা করা হয়েছে এবং একপর্যায়ে সেই শব্দই সহিংসতার নীরব অনুমতিতে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রামে দেওয়া এক বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, ‘গুপ্ত’ শব্দ শক্তিশালী হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ, তাই হচ্ছে। ‘রাজাকার’ শব্দে হাসিনার পতন হয়েছে, যে রাজনীতি শুরু করেছেন সেটাতে লাগাম না দিলে আজ হোক, কাল হোক পতন হবেই। সেটা রাজাকারের মতো ‘গুপ্ত’ শব্দ দিয়েই শুরু হতে পারে। তবে আমি আশা করতে চাই আপনারা লাগাম টানবেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘গুপ্ত’ শব্দটি ভিন্নমাত্রা পায়। আভিধানিক অর্থে শব্দটির অর্থ গোপন বা লুকানো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে বিরোধীদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে ‘গুপ্ত’ শব্দটি উচ্চারণ করেছেন, যদিও তিনি কোনো দলের নাম উল্লেখ করেননি।

এদিকে মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে একটি গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লিখে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। শেষ পর্যন্ত ‘গুপ্ত’ কথাটি গিয়ে ঠেকেছে জাতীয় সংসদে। এতে ‘গুপ্ত’ ইস্যুটি আবারও সামনে চলে এসেছে।

অন্যদিকে পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলের ১৭ বছর যারা গুম-খুন হয়েছিল, তাদের মাথায়ও সেই শব্দের দাগ দিয়ে গুম-খুন করা হয়েছিল। ‍সেই সময় ‘মৌলবাদী’, ‘জঙ্গি’, ‘স্বাধীনতাবিরোধী’, ‘রাজাকার’— এ ধরনের শব্দকে আদর্শিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।’

ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেন, ভিন্নমত পোষণ করলেই মানুষকে নানা ট্যাগ দেওয়া হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালেও আদর্শিক বিভাজনের ভাষা দেখা যাচ্ছে, যা শিক্ষার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

এনসিপির এ নেত্রী অভিযোগ করে বলেন, এখন এসব ভাষা শুধু রাজপথে সীমাবদ্ধ নেই; সংসদ, নেতৃত্বের বক্তব্য এবং শিক্ষাঙ্গনেও এর বিস্তার ঘটছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আড়ালে পড়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, একজন মা হিসেবে তিনি এই প্রবণতা নিয়ে শঙ্কিত। কারণ, এমন ভাষা ও শব্দের ব্যবহার শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় গড়াতে পারে।

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে এ ধরনের ভাষা ব্যবহারে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিজের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিথ্যা অপবাদে তিনি বিচলিত নন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১০:১৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
৫১ Time View

ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ‘শব্দের রাজনীতি’ : মিতু

Update Time : ১০:১৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেছেন, ‘শব্দের রাজনীতি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। কারণ আমি জানি, শব্দের শেষটা রক্তে গিয়ে থামে। আর রক্ত দেখতে ইচ্ছা করে না। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, এই ভাষা এখন শুধু রাস্তায় না পার্লামেন্টে, নেতৃত্বের বক্তব্যে, শিক্ষাঙ্গনের দেয়ালে জায়গা করে নিচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেছেন তিনি।


ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেন, ‘শব্দের রাজনীতি’ কোনো সাধারণ বিষয় নয়। অতীতে এসব শব্দ ব্যবহার করে মানুষকে চিহ্নিত করা হয়েছে, আলাদা করা হয়েছে এবং একপর্যায়ে সেই শব্দই সহিংসতার নীরব অনুমতিতে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রামে দেওয়া এক বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, ‘গুপ্ত’ শব্দ শক্তিশালী হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ, তাই হচ্ছে। ‘রাজাকার’ শব্দে হাসিনার পতন হয়েছে, যে রাজনীতি শুরু করেছেন সেটাতে লাগাম না দিলে আজ হোক, কাল হোক পতন হবেই। সেটা রাজাকারের মতো ‘গুপ্ত’ শব্দ দিয়েই শুরু হতে পারে। তবে আমি আশা করতে চাই আপনারা লাগাম টানবেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘গুপ্ত’ শব্দটি ভিন্নমাত্রা পায়। আভিধানিক অর্থে শব্দটির অর্থ গোপন বা লুকানো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে বিরোধীদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে ‘গুপ্ত’ শব্দটি উচ্চারণ করেছেন, যদিও তিনি কোনো দলের নাম উল্লেখ করেননি।

এদিকে মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে একটি গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লিখে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। শেষ পর্যন্ত ‘গুপ্ত’ কথাটি গিয়ে ঠেকেছে জাতীয় সংসদে। এতে ‘গুপ্ত’ ইস্যুটি আবারও সামনে চলে এসেছে।

অন্যদিকে পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলের ১৭ বছর যারা গুম-খুন হয়েছিল, তাদের মাথায়ও সেই শব্দের দাগ দিয়ে গুম-খুন করা হয়েছিল। ‍সেই সময় ‘মৌলবাদী’, ‘জঙ্গি’, ‘স্বাধীনতাবিরোধী’, ‘রাজাকার’— এ ধরনের শব্দকে আদর্শিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।’

ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেন, ভিন্নমত পোষণ করলেই মানুষকে নানা ট্যাগ দেওয়া হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালেও আদর্শিক বিভাজনের ভাষা দেখা যাচ্ছে, যা শিক্ষার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

এনসিপির এ নেত্রী অভিযোগ করে বলেন, এখন এসব ভাষা শুধু রাজপথে সীমাবদ্ধ নেই; সংসদ, নেতৃত্বের বক্তব্য এবং শিক্ষাঙ্গনেও এর বিস্তার ঘটছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আড়ালে পড়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, একজন মা হিসেবে তিনি এই প্রবণতা নিয়ে শঙ্কিত। কারণ, এমন ভাষা ও শব্দের ব্যবহার শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় গড়াতে পারে।

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে এ ধরনের ভাষা ব্যবহারে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিজের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিথ্যা অপবাদে তিনি বিচলিত নন।