যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: আসামির বয়ানে অসঙ্গতি, মিলল নতুন তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন প্রসিকিউটররা। তদন্তে উঠে এসেছে সন্দেহভাজনের পরস্পরবিরোধী বয়ান এবং ঘটনাক্রমের বিস্তারিত টাইমলাইন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, নিহত জামিল লিমন (২৭) ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মরদেহ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তে জানানো হয়েছে, তিনি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়েছেন।
এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহ-এর বিরুদ্ধে লিমন ও তার বন্ধু নাহিদা বৃষ্টি (২৭)-কে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, তবে ধারণা করা হচ্ছে তাকেও হত্যা করা হয়েছে।
প্রসিকিউটরদের আবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধের নৃশংসতা বিবেচনায় আসামিকে জামিন না দিয়ে বিচার পর্যন্ত কারাগারে রাখার দাবি জানানো হয়েছে। তাদের মতে, তাকে মুক্তি দিলে জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
রোববার রাতে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফস অফিস জানায়, হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের দক্ষিণে জলাশয় থেকে মানবদেহের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে সেগুলোর পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
তদন্তকারীরা বৃষ্টির পরিবারকে বাংলাদেশে ফোন করে জানান, লিমনের সঙ্গে শেয়ার করা অ্যাপার্টমেন্টে বিপুল পরিমাণ রক্তের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে বৃষ্টিও নিহত হতে পারেন।
আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়, লিমনের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তার শরীরের নিচের অংশে গভীর আঘাত পাওয়া যায়।
লিমন ও বৃষ্টি সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় দেখা গিয়েছিল এবং পরদিন তাদের নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিশাম দাবি করেন, তিনি ওইদিন তাদের দেখেননি। তবে তদন্তে তার গাড়ির অবস্থান ক্লিয়ারওয়াটার বিচ এলাকায় শনাক্ত হয়, যেখানে লিমনের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান পাওয়া যায়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বয়ান পরিবর্তন করে জানান, লিমন তাকে তার বান্ধবীসহ সেখানে নিয়ে যেতে বলেছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেন, তার বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যান্ডেজ ছিল। তিনি দাবি করেন, পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন।
এছাড়া ১৬ এপ্রিলের একটি সিভিএস দোকানের রসিদে আবর্জনার ব্যাগ, জীবাণুনাশক ওয়াইপস এবং এয়ার ফ্রেশনার কেনার তথ্য পাওয়া যায়, যা ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে একটি পৃথক সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ তার বাড়িতে গেলে আবুঘারবিয়েহকে গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার আদালতে প্রাথমিক শুনানির পর তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে। আগামী শুনানিতে প্রসিকিউটররা যুক্তি দেবেন, তিনি সমাজের জন্য হুমকি এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারেই রাখা উচিত।
হিশামের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রথম-ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগসহ মৃতদেহ গোপন করা, আলামত নষ্ট করা, অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং হামলার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।





















