০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে যেভাবে বিদ্যুৎ যাবে জাতীয় গ্রিডে

দীর্ঘ অবকাঠামো নির্মাণ ও কারিগরি প্রস্তুতির পর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের একেবারে শেষ ধাপে পৌঁছেছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে শুরু হচ্ছে ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

জ্বালানি লোডিং শেষ হলে চুল্লিতে ধাপে ধাপে ফিশন বিক্রিয়া শুরু হবে, যার মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন হবে। সেই তাপ দিয়ে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত করা হবে এবং ওই বাষ্প টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

এরপর উৎপাদিত বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে উচ্চ ভোল্টেজে রূপান্তরিত হয়ে সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যেখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী—

  • প্রথম ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হতে পারে
  • পরবর্তী ধাপে প্রথম ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় গেলে উৎপাদন হবে প্রায় ১,২০০ মেগাওয়াট
  • দুইটি ইউনিট চালু হলে মোট উৎপাদন দাঁড়াবে প্রায় ২,৪০০ মেগাওয়াট

এই কেন্দ্রের প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক VVER-1200 রিয়্যাক্টর, যা তৃতীয় প্রজন্মের নিরাপদ পারমাণবিক প্রযুক্তির মধ্যে একটি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুর কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পর দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

Update Time : ১২:০৩:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
২৫ Time View

রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে যেভাবে বিদ্যুৎ যাবে জাতীয় গ্রিডে

Update Time : ১২:০৩:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ অবকাঠামো নির্মাণ ও কারিগরি প্রস্তুতির পর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের একেবারে শেষ ধাপে পৌঁছেছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে শুরু হচ্ছে ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

জ্বালানি লোডিং শেষ হলে চুল্লিতে ধাপে ধাপে ফিশন বিক্রিয়া শুরু হবে, যার মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন হবে। সেই তাপ দিয়ে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত করা হবে এবং ওই বাষ্প টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

এরপর উৎপাদিত বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে উচ্চ ভোল্টেজে রূপান্তরিত হয়ে সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যেখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী—

  • প্রথম ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হতে পারে
  • পরবর্তী ধাপে প্রথম ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় গেলে উৎপাদন হবে প্রায় ১,২০০ মেগাওয়াট
  • দুইটি ইউনিট চালু হলে মোট উৎপাদন দাঁড়াবে প্রায় ২,৪০০ মেগাওয়াট

এই কেন্দ্রের প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক VVER-1200 রিয়্যাক্টর, যা তৃতীয় প্রজন্মের নিরাপদ পারমাণবিক প্রযুক্তির মধ্যে একটি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুর কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পর দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে।