০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অতিবৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জে নতুন করে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি

নতুন করে আরও ১ হাজার ৫০০ হেক্টর বোরো ধানের খেত তলিয়ে গেছে ।

কিশোরগঞ্জে টানা অতিবৃষ্টির কারণে হাওরাঞ্চলে নতুন করে আরও ১ হাজার ৫০০ হেক্টর বোরো ধানের খেত তলিয়ে গেছে। এতে জেলায় মোট তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫০০ হেক্টরে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘টানা তিন দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা উপজেলায়, যেখানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। অষ্টগ্রাম হাওরে তলিয়েছে ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি। এছাড়া মিঠামইন, করিমগঞ্জ ও নিকলী উপজেলার হাওরগুলোতেও পানি ঢুকে ধান তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পাশাপাশি দ্রুত ধান কাটার জন্য শ্রমিক সরবরাহ ও কম্বাইন হারভেস্টার সমন্বয়ের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের পর বৃহস্পতিবার সারাদিনই ছিল রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে। তবে শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার পর্যাপ্তভাবে ব্যবহার না করতে পারায় ধান কাটার কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত হাওরাঞ্চলের প্রায় ৫১ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

নিকলী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আখতার ফারুক বলেন, ‘বুধবার সকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৬১.১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।’

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ইটনার ধনু নদীতে ১৪ সেন্টিমিটার এবং অষ্টগ্রামের কালনী নদীতে ১ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। তবে এখনো নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৯:০৫:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
৬৭ Time View

অতিবৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জে নতুন করে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি

Update Time : ০৯:০৫:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

কিশোরগঞ্জে টানা অতিবৃষ্টির কারণে হাওরাঞ্চলে নতুন করে আরও ১ হাজার ৫০০ হেক্টর বোরো ধানের খেত তলিয়ে গেছে। এতে জেলায় মোট তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫০০ হেক্টরে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘টানা তিন দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা উপজেলায়, যেখানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। অষ্টগ্রাম হাওরে তলিয়েছে ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি। এছাড়া মিঠামইন, করিমগঞ্জ ও নিকলী উপজেলার হাওরগুলোতেও পানি ঢুকে ধান তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পাশাপাশি দ্রুত ধান কাটার জন্য শ্রমিক সরবরাহ ও কম্বাইন হারভেস্টার সমন্বয়ের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের পর বৃহস্পতিবার সারাদিনই ছিল রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে। তবে শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার পর্যাপ্তভাবে ব্যবহার না করতে পারায় ধান কাটার কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত হাওরাঞ্চলের প্রায় ৫১ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

নিকলী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আখতার ফারুক বলেন, ‘বুধবার সকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৬১.১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।’

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ইটনার ধনু নদীতে ১৪ সেন্টিমিটার এবং অষ্টগ্রামের কালনী নদীতে ১ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। তবে এখনো নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।