০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না এবং ধর্মকে কোনো রাজনৈতিক স্বার্থেও ব্যবহার করতে চায় না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমরা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি। আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে— ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সব ক্ষেত্রে সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।”

সব ধর্মের মূল বাণী যে মানুষের কল্যাণ, তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মহামতি গৌতম বুদ্ধের পঞ্চশীল নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা ও মাদক থেকে বিরত থাকা এবং প্রেম, অহিংসা ও সর্বজীবে দয়া প্রদর্শনই বৌদ্ধ ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা।

‘স্বাধীন বাংলাদেশ আমাদের সবার’

নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের জন্য একটি নিরাপদ দেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের অনুসারী, কে বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী, তা কারও জিজ্ঞাসা ছিল না। তাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার, আমার, আমাদের সবার।”

‘নিজেকে কখনো সংখ্যালঘু ভাববেন না’

বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সব বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে।

বৌদ্ধ নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা কেউ নিজেদের কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সবাই আমরা বাংলাদেশি।”

সম্মাননা প্রদান ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বৌদ্ধ নেতাদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি সম্মাননা ক্রেস্ট ও পবিত্র বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. সুকোমল বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০২:৫৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
৪৩ Time View

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : ০২:৫৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না এবং ধর্মকে কোনো রাজনৈতিক স্বার্থেও ব্যবহার করতে চায় না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমরা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি। আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে— ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সব ক্ষেত্রে সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।”

সব ধর্মের মূল বাণী যে মানুষের কল্যাণ, তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মহামতি গৌতম বুদ্ধের পঞ্চশীল নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা ও মাদক থেকে বিরত থাকা এবং প্রেম, অহিংসা ও সর্বজীবে দয়া প্রদর্শনই বৌদ্ধ ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা।

‘স্বাধীন বাংলাদেশ আমাদের সবার’

নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের জন্য একটি নিরাপদ দেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের অনুসারী, কে বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী, তা কারও জিজ্ঞাসা ছিল না। তাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার, আমার, আমাদের সবার।”

‘নিজেকে কখনো সংখ্যালঘু ভাববেন না’

বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সব বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে।

বৌদ্ধ নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা কেউ নিজেদের কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সবাই আমরা বাংলাদেশি।”

সম্মাননা প্রদান ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বৌদ্ধ নেতাদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি সম্মাননা ক্রেস্ট ও পবিত্র বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. সুকোমল বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।