ইতিহাসের বিতর্ক হামে আক্রান্ত শিশুর মায়ের মন শান্ত করতে পারে না’: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ইতিহাস নিয়ে অনেক বিতর্ক করা গেলেও তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেন, “এই বিতর্ক হামের শিকার বাচ্চার মায়ের মন শান্ত করতে পারবে না, বেকারের কর্মসংস্থান করে দিতে পারবে না। আমাদের হামে আক্রান্ত শিশুর জন্য ওষুধের ব্যবস্থা করতে হবে এবং বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।”
বৃহস্পতিবার রাতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের পর দীর্ঘ ১৮ বছর পর জনগণের সুষ্ঠু ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া এই অধিবেশন ২৫টি কার্যদিবস শেষে বৃহস্পতিবার শেষ হয়। অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং সমাপনী ভাষণ একসঙ্গে দেন সংসদ নেতা।
লক্ষ্য শুধু মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আসুন, আগামী অধিবেশনে আমরা আলোচনা করব—কত দ্রুত দেশের বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করতে পারি, কত বেশিসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান করতে পারি এবং কত দ্রুত শিক্ষা ও চিকিৎসা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারি। অন্য দেশের উদাহরণ না দিয়ে আমরা আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করব।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র যখনই বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তখনই দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে নিজেদের সমস্যার সমাধান বেশি দেখতে চায়।
নারীদের স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি ও ফ্যামিলি কার্ড
কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং খাল খনন কর্মসূচিসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা দেন, “এর আগে বিএনপি দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিল। এবার স্নাতক পর্যন্ত এটি বিনা মূল্যে করা হবে। সেই সঙ্গে ভালো ফলাফলকারীদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে।”
নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটিকে একটি বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে, যার রিটার্ন গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। বিশাল ঋণের বোঝা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেখানে ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণ মাথায় নিয়ে এই সংসদ দেশ পরিচালনা শুরু করেছে, সেখানে একটি স্থিতিশীল সরকার না থাকলে দেশকে আমরা এগিয়ে নিতে পারব না।”
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ব্যাগ ও ড্রেস দেওয়া হবে
যুক্তরাজ্যে থাকার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। সেই বিবেচনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস ও জুতা সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার উদ্বেগের জবাবে তিনি বলেন, “আমি চাই আমার দেশের সন্তানেরা একটি সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়া করুক।” বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের মানুষের কষ্টের কথা স্বীকার করে তিনি শিক্ষাঙ্গনের সমস্যাসহ জাতীয় সংকটগুলো বিরোধী দলের সঙ্গে বসে যৌথ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রথম অধিবেশনে পাস হলো ৯৪ বিল
অধিবেশন সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১০টি অধ্যাদেশ এই প্রথম অধিবেশনে অনুমোদন করা হয়েছে। ৭টি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে এবং ১৬টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ে অনুমোদন বা অননুমোদন না হওয়ায় কার্যকারিতা হারিয়েছে। সব মিলিয়ে অধ্যাদেশ অনুমোদন ও রহিতকরণ সংক্রান্ত ৯১টি বিল এবং আরও ৩টি বিলসহ মোট ৯৪টি বিল এই অধিবেশনে পাস হয়।
স্পিকারের সমাপনী বক্তব্য
রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করার মাধ্যমে প্রথম অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এর আগে সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে যে সহমর্মিতা ও সহযোগিতা এই অধিবেশনে দেখা গেছে, অতীতের কোনো সংসদে তেমন দৃশ্য তিনি দেখেননি। সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি দেশের স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দেওয়ার আহ্বান জানান।





















