জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের অধিকাংশই শ্রমিক, বন্ধ কারখানা খুলবে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক | যশোর
জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে যাঁরা শাহাদাত বরণ করেছেন, তাঁদের অধিকাংশই এ দেশের শ্রমজীবী মানুষ বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দেওয়া এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) সকালে যশোরের জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিপূর্ব এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রমিকদের ন্যায্যমজুরি ও জীবনমান উন্নয়ন
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সরকার শ্রমিকদের ন্যায্যমজুরি নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে শ্রমিক ও প্রান্তিক পরিবারগুলোতে আরও একটু সচ্ছলতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
কৃষক ও প্রান্তিক মানুষের জন্য সরকারের বিশেষ সুবিধা
সমাবেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও কৃষকদের জন্য সরকারের নেওয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- কৃষিঋণ মওকুফ: কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে।
- হাওরাঞ্চলে খাদ্য সহায়তা: অতিবৃষ্টির কারণে হাওরাঞ্চলে যেসব কৃষকের ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে, তাঁদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে আগামী তিন মাস সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী অমিত আশা প্রকাশ করে বলেন, “শ্রমিক ও সাধারণ প্রান্তিক মানুষের জন্য নেওয়া এসব জনবান্ধব উদ্যোগ একটি সুখী ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।”
অনুদান বিতরণ ও মে দিবসের র্যালি
আলোচনা সভা শেষে সমাবেশে উপস্থিত শ্রমিকদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। এরপর বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে মহান মে দিবসের বর্ণাঢ্য র্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রফিকুল হাসান, পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।





















