০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন জিয়াউর রহমান: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বর্তমানে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির যে প্রাণশক্তি হয়ে উঠেছে, তার মূল ভিত্তি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই স্থাপন করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শুক্রবার (১ মে) মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রেমিট্যান্স ও শ্রমনীতিতে জিয়াউর রহমানের অবদান

রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের সময়কার শ্রমবান্ধব উদ্যোগগুলোর কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ত্রিপক্ষীয় শ্রম নীতি ও সংস্কার শ্রমকল্যাণের ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে। ১৯৭৬ সালে তিনিই প্রথম দেশে ‘মিনিস্ট্রি অব ম্যানপাওয়ার’ (জনশক্তি মন্ত্রণালয়) প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় তাঁর দূরদর্শী উদ্যোগেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের ৩৩টি দেশে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের এক নতুন যুগের সূচনা করে।”

শ্রমিক কল্যাণে খালেদা জিয়ার পদক্ষেপ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারা সমুন্নত রেখেছিলেন। তিনি ‘শ্রম আইন ২০০৬’ প্রণয়ন এবং ‘শ্রম কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রমিকের অধিকার, কর্মসংস্থান ও কল্যাণের ভিতকে আরও বিস্তৃত করেন।”

বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ ও বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও শ্রমিকবান্ধব পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জানান:

  • দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ চিনিকল, রেশম, পাট ও অন্যান্য শিল্প কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
  • আগামী ছয় মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের ছয়টি পাটকল পুনরায় চালু করার চিন্তাভাবনা সরকারের রয়েছে।
  • দেশের আপামর শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার রক্ষা এবং নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নানা কর্মপরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে।

অর্থনীতির মূল কারিগর শ্রমিকরাই

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষের অপরিসীম অবদানের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “শ্রমিকরাই দেশের উন্নয়নের মূল কারিগর। প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো বিশাল রেমিট্যান্স এবং তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের ঘামে অর্জিত আয়ই আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।”

সবশেষে মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, টেকসই শিল্প উন্নয়ন ও সুরক্ষিত কর্মসংস্থানের জন্য শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে সরকার ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রমকে উৎসাহিত করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০১:৫১:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
৫০ Time View

দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন জিয়াউর রহমান: রাষ্ট্রপতি

Update Time : ০১:৫১:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বর্তমানে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির যে প্রাণশক্তি হয়ে উঠেছে, তার মূল ভিত্তি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই স্থাপন করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শুক্রবার (১ মে) মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রেমিট্যান্স ও শ্রমনীতিতে জিয়াউর রহমানের অবদান

রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের সময়কার শ্রমবান্ধব উদ্যোগগুলোর কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ত্রিপক্ষীয় শ্রম নীতি ও সংস্কার শ্রমকল্যাণের ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে। ১৯৭৬ সালে তিনিই প্রথম দেশে ‘মিনিস্ট্রি অব ম্যানপাওয়ার’ (জনশক্তি মন্ত্রণালয়) প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় তাঁর দূরদর্শী উদ্যোগেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের ৩৩টি দেশে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের এক নতুন যুগের সূচনা করে।”

শ্রমিক কল্যাণে খালেদা জিয়ার পদক্ষেপ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারা সমুন্নত রেখেছিলেন। তিনি ‘শ্রম আইন ২০০৬’ প্রণয়ন এবং ‘শ্রম কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রমিকের অধিকার, কর্মসংস্থান ও কল্যাণের ভিতকে আরও বিস্তৃত করেন।”

বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ ও বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও শ্রমিকবান্ধব পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জানান:

  • দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ চিনিকল, রেশম, পাট ও অন্যান্য শিল্প কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
  • আগামী ছয় মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের ছয়টি পাটকল পুনরায় চালু করার চিন্তাভাবনা সরকারের রয়েছে।
  • দেশের আপামর শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার রক্ষা এবং নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নানা কর্মপরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে।

অর্থনীতির মূল কারিগর শ্রমিকরাই

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষের অপরিসীম অবদানের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “শ্রমিকরাই দেশের উন্নয়নের মূল কারিগর। প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো বিশাল রেমিট্যান্স এবং তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের ঘামে অর্জিত আয়ই আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।”

সবশেষে মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, টেকসই শিল্প উন্নয়ন ও সুরক্ষিত কর্মসংস্থানের জন্য শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে সরকার ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রমকে উৎসাহিত করছে।