০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থিতিশীল সংসদ ও সরকার নিশ্চিতে সরকারি এবং বিরোধী দলকে একযোগে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং একটি কার্যকর সংসদ নিশ্চিত করতে সরকারি ও বিরোধী দল উভয়কেই একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।

বৃহস্পতিবার রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া ২৫ কার্যদিবসের এই প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং সমাপনী ভাষণ একসঙ্গে দেন সংসদ নেতা। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

‘কেউ কাউকে ব্যর্থ করতে চাইব না’

বর্তমান সংসদকে দেশের ইতিহাসের এক অনন্য সংসদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, “এই সংসদে আমরা উভয় পক্ষ দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করব। উভয় পক্ষ কেউ কাউকে ব্যর্থ করতে চাইব না। আপনি-আমি মিলেই পূর্ণ সংসদ। যেকোনো একজন ব্যর্থ হলেই বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে।”

বর্তমান বাংলাদেশ এবং এই সংসদ হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধী দল ও সরকারি দলের মধ্যে অনেকগুলো বিষয়ে দ্বিমত থাকবে, বিতর্ক হবে, আলোচনা হবে। কিন্তু কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।

অতীতের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির প্রসঙ্গ

অতীতে সরকারকে ব্যর্থ করে দিতে টানা ১৭৩ দিন হরতাল ডাকার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কেউ কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন এতে দেশের ক্ষতি হয়নি? সেই ক্ষতির মাশুল আমাদের বছরের পর বছর টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই সংসদের সফলতা মানেই ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এবং এই সরকারের টিকে থাকা মানেই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়া।

বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদের প্রস্তাব

প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি অধিবেশনে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। যেসব বিষয়ে বিরোধী দলের দ্বিমত রয়েছে, দেশের স্বার্থে সেসব বিষয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে সরকার আলোচনা করতে প্রস্তুত। তিনি চান সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করুক।

এ সময় বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেটি এখনো বহাল আছে বলে সংসদ নেতা নিশ্চিত করেন।

‘এই চেয়ারে প্রতি মুহূর্তে আগুনের তাপ আসে’

ভাষণের একপর্যায়ে নিজের আসনের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “দেখলে মনে হয় এই চেয়ারে বসতে আরাম। কিন্তু এই চেয়ারটাতে বসলে মনে হয় প্রতি মুহূর্তে আগুনের তাপ আসছে।”

প্রধানমন্ত্রীর এই সাবলীল ও বাস্তবমুখী বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের অনেক সদস্যকেও টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায়। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি হয়তো আরও পপুলার (জনপ্রিয়) কথা বলতে পারতাম, যেটাতে আরও অনেক বেশি তালি পড়ত। কিন্তু এই চেয়ার আমাকে বলে, আমি সব সময় পপুলার কথা বলতে পারি না। এই চেয়ার আমাকে নির্দেশ দেয় সঠিক সিদ্ধান্তটিই নিতে, নিছক পপুলার সিদ্ধান্ত নয়।”

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০২:৪১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
৫০ Time View

স্থিতিশীল সংসদ ও সরকার নিশ্চিতে সরকারি এবং বিরোধী দলকে একযোগে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০২:৪১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং একটি কার্যকর সংসদ নিশ্চিত করতে সরকারি ও বিরোধী দল উভয়কেই একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।

বৃহস্পতিবার রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া ২৫ কার্যদিবসের এই প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং সমাপনী ভাষণ একসঙ্গে দেন সংসদ নেতা। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

‘কেউ কাউকে ব্যর্থ করতে চাইব না’

বর্তমান সংসদকে দেশের ইতিহাসের এক অনন্য সংসদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, “এই সংসদে আমরা উভয় পক্ষ দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করব। উভয় পক্ষ কেউ কাউকে ব্যর্থ করতে চাইব না। আপনি-আমি মিলেই পূর্ণ সংসদ। যেকোনো একজন ব্যর্থ হলেই বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে।”

বর্তমান বাংলাদেশ এবং এই সংসদ হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধী দল ও সরকারি দলের মধ্যে অনেকগুলো বিষয়ে দ্বিমত থাকবে, বিতর্ক হবে, আলোচনা হবে। কিন্তু কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।

অতীতের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির প্রসঙ্গ

অতীতে সরকারকে ব্যর্থ করে দিতে টানা ১৭৩ দিন হরতাল ডাকার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কেউ কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন এতে দেশের ক্ষতি হয়নি? সেই ক্ষতির মাশুল আমাদের বছরের পর বছর টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই সংসদের সফলতা মানেই ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এবং এই সরকারের টিকে থাকা মানেই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়া।

বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদের প্রস্তাব

প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি অধিবেশনে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। যেসব বিষয়ে বিরোধী দলের দ্বিমত রয়েছে, দেশের স্বার্থে সেসব বিষয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে সরকার আলোচনা করতে প্রস্তুত। তিনি চান সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করুক।

এ সময় বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেটি এখনো বহাল আছে বলে সংসদ নেতা নিশ্চিত করেন।

‘এই চেয়ারে প্রতি মুহূর্তে আগুনের তাপ আসে’

ভাষণের একপর্যায়ে নিজের আসনের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “দেখলে মনে হয় এই চেয়ারে বসতে আরাম। কিন্তু এই চেয়ারটাতে বসলে মনে হয় প্রতি মুহূর্তে আগুনের তাপ আসছে।”

প্রধানমন্ত্রীর এই সাবলীল ও বাস্তবমুখী বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের অনেক সদস্যকেও টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায়। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি হয়তো আরও পপুলার (জনপ্রিয়) কথা বলতে পারতাম, যেটাতে আরও অনেক বেশি তালি পড়ত। কিন্তু এই চেয়ার আমাকে বলে, আমি সব সময় পপুলার কথা বলতে পারি না। এই চেয়ার আমাকে নির্দেশ দেয় সঠিক সিদ্ধান্তটিই নিতে, নিছক পপুলার সিদ্ধান্ত নয়।”