০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪০ বছরের রহস্য! তিস্তার খালে ভেসে থাকা সেই কবর, সরাতে গিয়ে বিকল হয়েছিল ড্রেজার

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা-এর ছিট রাজিব সরকারপাড়া গ্রামে তিস্তা প্রধান সেচ খালের মাঝখানে অবস্থিত একটি কবর ঘিরে প্রায় চার দশক ধরে তৈরি হয়েছে রহস্য। চারদিকে পানিতে ঘেরা এই কবরটি দূর থেকে কচুরিপানার মতো মনে হলেও কাছে গেলে বোঝা যায়—এটি একটি মানুষের কবর, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অক্ষতভাবেই টিকে আছে।

জোয়ারের সময় কবরটি পানির ওপর ভেসে থাকতে দেখা যায়, আবার ভাটার সময় তা যেন নিজ জায়গায় স্থির হয়ে যায়। আশপাশের অন্যান্য কবর বহু আগেই পানির স্রোতে বিলীন হলেও এই কবরটি রয়ে গেছে অটুট—যা স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও বিস্ময় তৈরি করেছে।

স্থানীয়দের মতে, এটি দেবার উদ্দীন হাজী-এর কবর। তিনি এলাকায় দানশীল ও ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জনশ্রুতি আছে, তিনি হেঁটে হজ পালন করেছিলেন এবং মৃত্যুর আগে বিপুল পরিমাণ জমি দান করে গেছেন।

১৯৮৪ সালে তিস্তা সেচ খাল খননের সময় ওই কবরস্থান অধিগ্রহণ করা হয়। একে একে সব কবর সরিয়ে ফেলা হলেও এই কবরটি সরাতে গিয়ে ঘটে অদ্ভুত ঘটনা। স্থানীয়দের দাবি, ড্রেজার মেশিন বারবার বিকল হয়ে পড়ে। বহু চেষ্টা করেও কবরটি সরানো সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেটিকে অক্ষত রেখেই পাশ দিয়ে খননকাজ সম্পন্ন করা হয়।

এরপর থেকেই কবরটি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। খালের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও কবরটি কখনো ভেসে ওঠে, কখনো আবার স্থির হয়ে থাকে—যেন নিজস্ব কোনো নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে।

কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ খুঁজছেন এর পেছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রহস্যের সমাধান না হয়ে বরং মানুষের কৌতূহল আরও বেড়েই চলেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৮:৩২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
২২৭ Time View

৪০ বছরের রহস্য! তিস্তার খালে ভেসে থাকা সেই কবর, সরাতে গিয়ে বিকল হয়েছিল ড্রেজার

Update Time : ০৮:৩২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা-এর ছিট রাজিব সরকারপাড়া গ্রামে তিস্তা প্রধান সেচ খালের মাঝখানে অবস্থিত একটি কবর ঘিরে প্রায় চার দশক ধরে তৈরি হয়েছে রহস্য। চারদিকে পানিতে ঘেরা এই কবরটি দূর থেকে কচুরিপানার মতো মনে হলেও কাছে গেলে বোঝা যায়—এটি একটি মানুষের কবর, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অক্ষতভাবেই টিকে আছে।

জোয়ারের সময় কবরটি পানির ওপর ভেসে থাকতে দেখা যায়, আবার ভাটার সময় তা যেন নিজ জায়গায় স্থির হয়ে যায়। আশপাশের অন্যান্য কবর বহু আগেই পানির স্রোতে বিলীন হলেও এই কবরটি রয়ে গেছে অটুট—যা স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও বিস্ময় তৈরি করেছে।

স্থানীয়দের মতে, এটি দেবার উদ্দীন হাজী-এর কবর। তিনি এলাকায় দানশীল ও ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জনশ্রুতি আছে, তিনি হেঁটে হজ পালন করেছিলেন এবং মৃত্যুর আগে বিপুল পরিমাণ জমি দান করে গেছেন।

১৯৮৪ সালে তিস্তা সেচ খাল খননের সময় ওই কবরস্থান অধিগ্রহণ করা হয়। একে একে সব কবর সরিয়ে ফেলা হলেও এই কবরটি সরাতে গিয়ে ঘটে অদ্ভুত ঘটনা। স্থানীয়দের দাবি, ড্রেজার মেশিন বারবার বিকল হয়ে পড়ে। বহু চেষ্টা করেও কবরটি সরানো সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেটিকে অক্ষত রেখেই পাশ দিয়ে খননকাজ সম্পন্ন করা হয়।

এরপর থেকেই কবরটি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। খালের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও কবরটি কখনো ভেসে ওঠে, কখনো আবার স্থির হয়ে থাকে—যেন নিজস্ব কোনো নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে।

কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ খুঁজছেন এর পেছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রহস্যের সমাধান না হয়ে বরং মানুষের কৌতূহল আরও বেড়েই চলেছে।