০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শামসুজ্জামান দুদু

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু এখন সময়ের দাবি—বর্তমান সরকারকেই বাস্তবায়নের আহ্বান

বর্তমান সরকারের সময়েই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে বাস্তবায়ন করতে হবে—এমন দাবি জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বহু আগেই দুটি পদ্মা সেতুর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছিলেন, কিন্তু আন্দোলন থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত স্থানে তা বাস্তবায়ন হয়নি।

রোববার (৩ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব-এ ‘দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া-কাজীরহাট’ রুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর দাবিতে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু জানান, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বছর আগে ছাত্রজীবন থেকেই এই রুটে পদ্মা সেতুর দাবি উঠে আসছে। তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলে পদ্মার ওপারের মানুষ শিক্ষা ও ব্যবসায় এগিয়ে ছিল, কারণ তখন রাজধানী ছিল কলকাতায় এবং তাদের ঢাকায় আসার প্রয়োজন হতো না।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি ও ত্যাগ স্বীকার করেছে। এখন সময় এসেছে ‘দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া’ নৌরুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে সেই ভোগান্তির অবসান ঘটানোর।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি ডা. আবু তোহা বলেন, ‘দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া-কাজীরহাট’ রুটে সেতুটি নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। এটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নে নতুন গতি আসবে।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ফেরিনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা অনির্ভরশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশা ও দুর্ঘটনার কারণে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে। সেতু নির্মিত হলে রাজধানীর সঙ্গে এই অঞ্চলের যোগাযোগ আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর হবে।

আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, এই সেতু বাস্তবায়িত হলে মানিকগঞ্জসহ রাজবাড়ি, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়াসহ আশপাশের জেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। পাশাপাশি সাভারের শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তাদের মতে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে ফেরি দুর্ঘটনা কমে যাবে এবং শীতকালে ঘন কুয়াশার কারণে যাতায়াতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তা থেকে মানুষ মুক্তি পাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৭:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
১১২৩ Time View

শামসুজ্জামান দুদু

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু এখন সময়ের দাবি—বর্তমান সরকারকেই বাস্তবায়নের আহ্বান

Update Time : ০৭:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

বর্তমান সরকারের সময়েই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে বাস্তবায়ন করতে হবে—এমন দাবি জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বহু আগেই দুটি পদ্মা সেতুর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছিলেন, কিন্তু আন্দোলন থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত স্থানে তা বাস্তবায়ন হয়নি।

রোববার (৩ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব-এ ‘দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া-কাজীরহাট’ রুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর দাবিতে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু জানান, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বছর আগে ছাত্রজীবন থেকেই এই রুটে পদ্মা সেতুর দাবি উঠে আসছে। তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলে পদ্মার ওপারের মানুষ শিক্ষা ও ব্যবসায় এগিয়ে ছিল, কারণ তখন রাজধানী ছিল কলকাতায় এবং তাদের ঢাকায় আসার প্রয়োজন হতো না।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি ও ত্যাগ স্বীকার করেছে। এখন সময় এসেছে ‘দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া’ নৌরুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে সেই ভোগান্তির অবসান ঘটানোর।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি ডা. আবু তোহা বলেন, ‘দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া-কাজীরহাট’ রুটে সেতুটি নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। এটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নে নতুন গতি আসবে।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ফেরিনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা অনির্ভরশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশা ও দুর্ঘটনার কারণে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে। সেতু নির্মিত হলে রাজধানীর সঙ্গে এই অঞ্চলের যোগাযোগ আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর হবে।

আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, এই সেতু বাস্তবায়িত হলে মানিকগঞ্জসহ রাজবাড়ি, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়াসহ আশপাশের জেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। পাশাপাশি সাভারের শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তাদের মতে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে ফেরি দুর্ঘটনা কমে যাবে এবং শীতকালে ঘন কুয়াশার কারণে যাতায়াতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তা থেকে মানুষ মুক্তি পাবে।