০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: ৫ দিনেই চার্জশিট, লোমহর্ষক বর্ণনায় শিউরে ওঠার মতো তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওহিদুজ্জামান। মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর আগে শনিবার (২৩ মে) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) রামিসার ডিএনএ রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে।

পরকীয়া থেকে বিয়ে করা স্ত্রীও ছিলেন সহযোগী

চার্জশিট সূত্রে জানা যায়, আসামি সোহেল পেশায় একজন অটোরিকশা মেকানিক। স্বপ্না খাতুন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। পরকীয়ার সম্পর্ক থেকেই তাদের বিয়ে হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সোহেলের প্রথম সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। প্রায় আড়াই মাস আগে তারা পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের ২ নম্বর লেনের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়।

যেভাবে ঘটানো হয় রোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ড

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ফ্ল্যাটের তিন কক্ষের একটিতে সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না থাকত এবং পাশের দুই কক্ষে রামিসার পরিবার থাকত। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসার বাবা-মা কাজের জন্য বাইরে গেলে সোহেল শিশুটিকে তার রুমের সামনে ডাকে। এরপর তাকে জোর করে রুমের ভেতরে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে।

রামিসা চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। লাশ গুম করতে রুম থেকে ছুরি এনে শিশুটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে পাষণ্ড সোহেল। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে এবং যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। এরপর মরদেহ বাথরুম থেকে শোবার ঘরে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে এবং বিচ্ছিন্ন মাথাটি একটি বড় বালতির ভেতর রাখে।

জুতা দেখে সন্দেহ এবং আসামিদের গ্রেপ্তার

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে রামিসার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সোহেলের বাসার সামনে রামিসার একটি জুতা দেখতে পেয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন। প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা করলে সোহেল বাথরুম থেকে রামিসার দেহ রুমে নিয়ে যায়। এ সময় তার স্ত্রী স্বপ্না লাশ দেখেও বিষয়টি গোপন করতে ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়।

লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে রামিসার খণ্ডিত লাশ দেখতে পায়। সোহেলের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বপ্না জানায়, সে গ্রিল কেটে পালিয়েছে।

ঘটনার পরপরই পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিশু রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় দুজনের নামেই হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১০:২১:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
১১৪ Time View

পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: ৫ দিনেই চার্জশিট, লোমহর্ষক বর্ণনায় শিউরে ওঠার মতো তথ্য

Update Time : ১০:২১:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওহিদুজ্জামান। মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর আগে শনিবার (২৩ মে) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) রামিসার ডিএনএ রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে।

পরকীয়া থেকে বিয়ে করা স্ত্রীও ছিলেন সহযোগী

চার্জশিট সূত্রে জানা যায়, আসামি সোহেল পেশায় একজন অটোরিকশা মেকানিক। স্বপ্না খাতুন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। পরকীয়ার সম্পর্ক থেকেই তাদের বিয়ে হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সোহেলের প্রথম সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। প্রায় আড়াই মাস আগে তারা পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের ২ নম্বর লেনের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়।

যেভাবে ঘটানো হয় রোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ড

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ফ্ল্যাটের তিন কক্ষের একটিতে সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না থাকত এবং পাশের দুই কক্ষে রামিসার পরিবার থাকত। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসার বাবা-মা কাজের জন্য বাইরে গেলে সোহেল শিশুটিকে তার রুমের সামনে ডাকে। এরপর তাকে জোর করে রুমের ভেতরে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে।

রামিসা চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। লাশ গুম করতে রুম থেকে ছুরি এনে শিশুটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে পাষণ্ড সোহেল। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে এবং যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। এরপর মরদেহ বাথরুম থেকে শোবার ঘরে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে এবং বিচ্ছিন্ন মাথাটি একটি বড় বালতির ভেতর রাখে।

জুতা দেখে সন্দেহ এবং আসামিদের গ্রেপ্তার

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে রামিসার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সোহেলের বাসার সামনে রামিসার একটি জুতা দেখতে পেয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন। প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা করলে সোহেল বাথরুম থেকে রামিসার দেহ রুমে নিয়ে যায়। এ সময় তার স্ত্রী স্বপ্না লাশ দেখেও বিষয়টি গোপন করতে ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়।

লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে রামিসার খণ্ডিত লাশ দেখতে পায়। সোহেলের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বপ্না জানায়, সে গ্রিল কেটে পালিয়েছে।

ঘটনার পরপরই পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিশু রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় দুজনের নামেই হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।