০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিত ৭ সদস্যের ‘কিচেন ক্যাবিনেট’, তিনবার পদত্যাগ করতে চেয়েছিলাম: তৌহিদ হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত নিত সাত সদস্যের একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’—এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, নিজের মন্ত্রণালয়ে অন্য উপদেষ্টাদের প্রভাব এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় এই কিচেন ক্যাবিনেটের হস্তক্ষেপের কারণে তিনি অন্তত তিনবার পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন, তবে তা গৃহীত হয়নি।

সম্প্রতি দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরের পরিস্থিতি, জুলাই অভ্যুত্থানে ‘ডিপ স্টেট’-এর ভূমিকা এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।

‘কিচেন ক্যাবিনেট’ ও পদত্যাগের চেষ্টা

সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের ওই সাত সদস্যের গ্রুপটি প্রতি মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নিয়মিত বৈঠকে বসত।

নিজের পদত্যাগের চেষ্টার বিষয়টি পরিষ্কার করতে গিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমার মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল। এক্ষেত্রে তাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা না থাকলেও উচ্চপর্যায়ে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হতো, তাই আমাকেও তাদের মতামত মানতে হতো। আমি সরে আসার চিন্তা তিনবার করেছি। কিন্তু তারা আমাকে অনুরোধ করে জানায় যে, আমার পদত্যাগ সরকারের জন্য খুবই অস্বস্তিকর হবে।”

কিচেন ক্যাবিনেটের অস্তিত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, “কোনো এক উপলক্ষে কিচেন ক্যাবিনেটের একটি বৈঠকে আমাকে যমুনাতে যেতে হয়েছিল। পরে আমি জেনেছি যে প্রতি মঙ্গলবার তারা বসেন। কেউ কেউ সিদ্ধান্ত নেয়—এ ধরনের কথাবার্তা শোনা যেত। কিন্তু এর বাইরে আমার জানা ছিল না যে, এমন একেবারে একটি নির্দিষ্ট গ্রুপ আছে, যারা নিয়মিত বসে সিদ্ধান্ত নেয়!”

জুলাই অভ্যুত্থানে ‘ডিপ স্টেট’-এর প্রভাব

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘ডিপ স্টেট’ সক্রিয় ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, “পৃথিবীতে সব বড় ঘটনার সাথেই ডিপ স্টেট জড়িত থাকে। ডিপ স্টেট যুক্ত হয়, তবে তারা স্রোতের বিপক্ষে যায় না; বরং স্রোতে গা ভাসিয়ে পরে সেটিকে ম্যানিপুলেট (নিয়ন্ত্রণ) করে।”

শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়া ও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ

দায়িত্ব নেওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের দিল্লিকে চিঠি লিখেছিলেন তৌহিদ হোসেন। তবে তিনি জানতেন যে, এই চিঠি বাস্তবে কোনো কাজে আসবে না।

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসা নিয়ে তিনি বলেন, “আমি মনে করি না আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে একেবারে আউট হয়ে গেছে। আমাদের দেশের মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ নয়। আমি বিশ্বাস করি, তারা রাজনীতিতে ফিরে আসবে এবং আমার অনুমান, আগামী নির্বাচনে তারা অংশও নেবে।”

বর্তমান সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের মূল্যায়ন নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এই বর্ষীয়ান কূটনীতিক। তবে তিনি মনে করেন, বর্তমান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো পরাশক্তিগুলোকে সফলভাবে সামলানো।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১১:৪১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
৬৯ Time View

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিত ৭ সদস্যের ‘কিচেন ক্যাবিনেট’, তিনবার পদত্যাগ করতে চেয়েছিলাম: তৌহিদ হোসেন

Update Time : ১১:৪১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত নিত সাত সদস্যের একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’—এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, নিজের মন্ত্রণালয়ে অন্য উপদেষ্টাদের প্রভাব এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় এই কিচেন ক্যাবিনেটের হস্তক্ষেপের কারণে তিনি অন্তত তিনবার পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন, তবে তা গৃহীত হয়নি।

সম্প্রতি দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরের পরিস্থিতি, জুলাই অভ্যুত্থানে ‘ডিপ স্টেট’-এর ভূমিকা এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।

‘কিচেন ক্যাবিনেট’ ও পদত্যাগের চেষ্টা

সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের ওই সাত সদস্যের গ্রুপটি প্রতি মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নিয়মিত বৈঠকে বসত।

নিজের পদত্যাগের চেষ্টার বিষয়টি পরিষ্কার করতে গিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমার মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল। এক্ষেত্রে তাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা না থাকলেও উচ্চপর্যায়ে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হতো, তাই আমাকেও তাদের মতামত মানতে হতো। আমি সরে আসার চিন্তা তিনবার করেছি। কিন্তু তারা আমাকে অনুরোধ করে জানায় যে, আমার পদত্যাগ সরকারের জন্য খুবই অস্বস্তিকর হবে।”

কিচেন ক্যাবিনেটের অস্তিত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, “কোনো এক উপলক্ষে কিচেন ক্যাবিনেটের একটি বৈঠকে আমাকে যমুনাতে যেতে হয়েছিল। পরে আমি জেনেছি যে প্রতি মঙ্গলবার তারা বসেন। কেউ কেউ সিদ্ধান্ত নেয়—এ ধরনের কথাবার্তা শোনা যেত। কিন্তু এর বাইরে আমার জানা ছিল না যে, এমন একেবারে একটি নির্দিষ্ট গ্রুপ আছে, যারা নিয়মিত বসে সিদ্ধান্ত নেয়!”

জুলাই অভ্যুত্থানে ‘ডিপ স্টেট’-এর প্রভাব

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘ডিপ স্টেট’ সক্রিয় ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, “পৃথিবীতে সব বড় ঘটনার সাথেই ডিপ স্টেট জড়িত থাকে। ডিপ স্টেট যুক্ত হয়, তবে তারা স্রোতের বিপক্ষে যায় না; বরং স্রোতে গা ভাসিয়ে পরে সেটিকে ম্যানিপুলেট (নিয়ন্ত্রণ) করে।”

শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়া ও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ

দায়িত্ব নেওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের দিল্লিকে চিঠি লিখেছিলেন তৌহিদ হোসেন। তবে তিনি জানতেন যে, এই চিঠি বাস্তবে কোনো কাজে আসবে না।

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসা নিয়ে তিনি বলেন, “আমি মনে করি না আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে একেবারে আউট হয়ে গেছে। আমাদের দেশের মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ নয়। আমি বিশ্বাস করি, তারা রাজনীতিতে ফিরে আসবে এবং আমার অনুমান, আগামী নির্বাচনে তারা অংশও নেবে।”

বর্তমান সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের মূল্যায়ন নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এই বর্ষীয়ান কূটনীতিক। তবে তিনি মনে করেন, বর্তমান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো পরাশক্তিগুলোকে সফলভাবে সামলানো।