০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: ‘কক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি ছিল’, জানালেন স্বাস্থ্য ডিজি

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয়টি নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ বা পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান।

‘বন্ধ কক্ষে ছিল শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ’

পরিদর্শন শেষে কক্ষের ভয়াবহ অবস্থার বর্ণনা দিয়ে স্বাস্থ্য মহাপরিচালক বলেন, “আজকে ভোরবেলায় এই কক্ষে এসি-সংক্রান্ত জটিলতা অথবা অন্য যেকোনো কারণে একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। আমরা দেখেছি, এসিটি এমনভাবে বসানো ছিল যে সেটি বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে আর কোনো ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছিল না। এমন অমানবিক ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে এখানে চিকিৎসাধীন ছয়টি শিশুকে আমরা হারিয়েছি।”

নবজাতক ও মায়েদের অবস্থা

অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ওই ওয়ার্ডে মোট ১১ জন মা ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন মা তাঁদের নবজাতক নিয়ে ছিলেন। মারা যাওয়া এসব নবজাতকের বয়স ছিল মাত্র এক থেকে তিন দিনের মধ্যে। বাকি পাঁচজন নবজাতক জন্মগত জটিলতার কারণে এনআইসিইউতে (বিশেষ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন ছিল।

উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি ও ম্যান্ডেট

ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে একটি তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন:

  • স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব।
  • স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইংয়ের উপপরিচালক।
  • স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

ডিজি জানান, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, শিশুদের চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং কক্ষের পরিবেশ ও এসির কারিগরি ত্রুটির বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। প্রয়োজনে কমিটিতে কারিগরি বিশেষজ্ঞদেরও (কো-অপ্ট) যুক্ত করা হবে।

কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ও পুলিশের তদন্ত

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন স্বাস্থ্য মহাপরিচালক। তিনি বলেন, সেবায় গাফিলতি, দায়িত্ব অবহেলা কিংবা অবকাঠামোগত কোনো ত্রুটি প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, বুধবার সকালে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে রমনা থানা-পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এসির গ্যাসলাইনে লিকেজ বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দম আটকে শিশুগুলোর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৬:৫৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
৫৫ Time View

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: ‘কক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি ছিল’, জানালেন স্বাস্থ্য ডিজি

Update Time : ০৬:৫৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয়টি নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ বা পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান।

‘বন্ধ কক্ষে ছিল শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ’

পরিদর্শন শেষে কক্ষের ভয়াবহ অবস্থার বর্ণনা দিয়ে স্বাস্থ্য মহাপরিচালক বলেন, “আজকে ভোরবেলায় এই কক্ষে এসি-সংক্রান্ত জটিলতা অথবা অন্য যেকোনো কারণে একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। আমরা দেখেছি, এসিটি এমনভাবে বসানো ছিল যে সেটি বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে আর কোনো ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছিল না। এমন অমানবিক ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে এখানে চিকিৎসাধীন ছয়টি শিশুকে আমরা হারিয়েছি।”

নবজাতক ও মায়েদের অবস্থা

অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ওই ওয়ার্ডে মোট ১১ জন মা ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন মা তাঁদের নবজাতক নিয়ে ছিলেন। মারা যাওয়া এসব নবজাতকের বয়স ছিল মাত্র এক থেকে তিন দিনের মধ্যে। বাকি পাঁচজন নবজাতক জন্মগত জটিলতার কারণে এনআইসিইউতে (বিশেষ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন ছিল।

উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি ও ম্যান্ডেট

ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে একটি তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন:

  • স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব।
  • স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইংয়ের উপপরিচালক।
  • স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

ডিজি জানান, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, শিশুদের চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং কক্ষের পরিবেশ ও এসির কারিগরি ত্রুটির বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। প্রয়োজনে কমিটিতে কারিগরি বিশেষজ্ঞদেরও (কো-অপ্ট) যুক্ত করা হবে।

কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ও পুলিশের তদন্ত

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন স্বাস্থ্য মহাপরিচালক। তিনি বলেন, সেবায় গাফিলতি, দায়িত্ব অবহেলা কিংবা অবকাঠামোগত কোনো ত্রুটি প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, বুধবার সকালে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে রমনা থানা-পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এসির গ্যাসলাইনে লিকেজ বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দম আটকে শিশুগুলোর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ।