‘দেশে এবার প্রায় এক কোটি পশু কোরবানি হবে, হাটে অনিরাপত্তার অভিযোগ নেই’
কুমিল্লা প্রতিনিধি | কুমিল্লা এবারের ঈদুল আজহায় সারা দেশে প্রায় এক কোটি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ ইয়াছিন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, এবারের কোরবানির পশুর হাট অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ এবং এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অনিরাপত্তা বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে কুমিল্লা নগরীর নেউরা কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
নিরাপদ পশুর হাট ও সরকারি ব্যবস্থাপনা
মন্ত্রী বলেন, “প্রান্তিক খামারি থেকে শুরু করে ক্রেতা পর্যন্ত সবাই যেন নিরাপদে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন, সে জন্য সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এবারের বাজারে অবৈধভাবে আসা কোনো পশুও চোখে পড়েনি।”
তিনি আরও জানান, ঈদের বাজার এখনো পুরোপুরি জমে না উঠলেও সারা দেশে এবার প্রায় এক কোটি পশু কোরবানি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কঠোর নিরাপত্তা ও ভেটেরিনারি সেবা
পশুর হাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সার্বক্ষণিক ভেটেরিনারি টিম।
- জাল টাকা শনাক্ত ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
- চাঁদাবাজি ঠেকাতে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি।
পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী হাটে থাকা ভেটেরিনারি টিমের বুথ থেকে মাইকিং করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উদ্দেশে বলেন, কোনো ধরনের সমস্যা হলে তাঁরা যেন তাৎক্ষণিকভাবে বুথে যোগাযোগ করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন স্টল ঘুরে পশু ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
কোরবানির অর্থনৈতিক প্রভাব
কোরবানির পশুর হাটের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ ইয়াছিন বলেন, “কোরবানিকে ঘিরে যে বিশাল অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়, তা দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং লাখো মানুষের জীবিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
উপস্থিত ছিলেন যাঁরা
মন্ত্রীর এই হাট পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন:
- কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু
- জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শামসুল ইসলাম
- কুমিল্লা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম
- সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান
- জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রশাসনের অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।





















