০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত, দেশ-জাতি ও বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং বিশ্বশান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত দেশের প্রধান এই ঈদ জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি মো. আবদুল মালেক।

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিয়ে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও এই জামাতে অংশগ্রহণ করেন।

মোনাজাত ও খুতবার মূল বার্তা

নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত বিশেষ মোনাজাতে দেশের অগ্রগতি ও বিশ্বশান্তির জন্য দোয়া করা হয়। মোনাজাতের বিশেষ দিকগুলো হলো:

  • ফিলিস্তিন ও ইরানের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য আল্লাহর কাছে বিশেষ রহমত ও সাহায্য কামনা করা হয়।
  • সম্প্রতি বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে হামের (Measles) ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
  • সবার গুনাহ মাফ এবং মৃত ব্যক্তিদের কবরের আজাব থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়।

এর আগে ঈদের প্রধান জামাতের খুতবায় পশু কোরবানির পাশাপাশি ‘মনের পশুকে জবাই’ করার আহ্বান জানান খতিব হাফেজ মাওলানা আবদুল মালেক।

জাতীয় ঈদগাহে জামাতের বিশাল আয়োজন

এবার জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। পুরো মাঠে কার্পেট বিছানো হয়। জামাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ছিল চোখে পড়ার মতো:

  • ধারণক্ষমতা: ১২১টি কাতারে সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ ও ৩ হাজার ৫০০ নারীর জন্য জায়গা রাখা হয়।
  • ভিভিআইপি ব্যবস্থা: অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য আলাদা কাতারে প্রায় ২৫০ জন পুরুষ ও ৮০ জন নারীর নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল, যেখানে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্রের ব্যবস্থাও রাখা হয়।
  • অবকাঠামো: প্যান্ডেলের কাঠামো দাঁড় করাতে লেগেছে ৪৩ হাজারের বেশি বাঁশ এবং এটি মজবুত রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৫ টনের বেশি রশি।
  • আবহাওয়া সুরক্ষা ও স্বস্তি: বৃষ্টি থেকে সুরক্ষায় ১ হাজার ৯০০টি উন্নত মানের ত্রিপল টাঙানো হয়। গরমের কথা মাথায় রেখে প্যান্ডেলের ভেতরে ১ হাজার ১০০টির বেশি ফ্যান এবং মাঠ আলোকিত রাখতে ৯০০টি টিউবলাইট স্থাপন করা হয়।

প্রবেশ ও প্রস্থান ব্যবস্থা

সুশৃঙ্খলভাবে নামাজ আদায়ের জন্য নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, ওজুখানা ও নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

  • প্রবেশপথ: ঈদগাহে প্রবেশের জন্য মোট ৪টি গেট রাখা হয়। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য একটি এবং সাধারণ মুসল্লিদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ছিল।
  • বহির্গমন পথ: নামাজ শেষে মুসল্লিরা যাতে সহজে ও নিরাপদে বের হতে পারেন, সে জন্য মোট ৭টি বহির্গমন পথ রাখা হয়। এর মধ্যে সাধারণ পুরুষদের জন্য ৫টি, নারীদের জন্য ১টি এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য ১টি পথ নির্ধারণ করা ছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১১:২২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
৫৩ Time View

জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত, দেশ-জাতি ও বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত

Update Time : ১১:২২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং বিশ্বশান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত দেশের প্রধান এই ঈদ জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি মো. আবদুল মালেক।

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিয়ে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও এই জামাতে অংশগ্রহণ করেন।

মোনাজাত ও খুতবার মূল বার্তা

নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত বিশেষ মোনাজাতে দেশের অগ্রগতি ও বিশ্বশান্তির জন্য দোয়া করা হয়। মোনাজাতের বিশেষ দিকগুলো হলো:

  • ফিলিস্তিন ও ইরানের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য আল্লাহর কাছে বিশেষ রহমত ও সাহায্য কামনা করা হয়।
  • সম্প্রতি বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে হামের (Measles) ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
  • সবার গুনাহ মাফ এবং মৃত ব্যক্তিদের কবরের আজাব থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়।

এর আগে ঈদের প্রধান জামাতের খুতবায় পশু কোরবানির পাশাপাশি ‘মনের পশুকে জবাই’ করার আহ্বান জানান খতিব হাফেজ মাওলানা আবদুল মালেক।

জাতীয় ঈদগাহে জামাতের বিশাল আয়োজন

এবার জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। পুরো মাঠে কার্পেট বিছানো হয়। জামাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ছিল চোখে পড়ার মতো:

  • ধারণক্ষমতা: ১২১টি কাতারে সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ ও ৩ হাজার ৫০০ নারীর জন্য জায়গা রাখা হয়।
  • ভিভিআইপি ব্যবস্থা: অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য আলাদা কাতারে প্রায় ২৫০ জন পুরুষ ও ৮০ জন নারীর নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল, যেখানে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্রের ব্যবস্থাও রাখা হয়।
  • অবকাঠামো: প্যান্ডেলের কাঠামো দাঁড় করাতে লেগেছে ৪৩ হাজারের বেশি বাঁশ এবং এটি মজবুত রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৫ টনের বেশি রশি।
  • আবহাওয়া সুরক্ষা ও স্বস্তি: বৃষ্টি থেকে সুরক্ষায় ১ হাজার ৯০০টি উন্নত মানের ত্রিপল টাঙানো হয়। গরমের কথা মাথায় রেখে প্যান্ডেলের ভেতরে ১ হাজার ১০০টির বেশি ফ্যান এবং মাঠ আলোকিত রাখতে ৯০০টি টিউবলাইট স্থাপন করা হয়।

প্রবেশ ও প্রস্থান ব্যবস্থা

সুশৃঙ্খলভাবে নামাজ আদায়ের জন্য নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, ওজুখানা ও নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

  • প্রবেশপথ: ঈদগাহে প্রবেশের জন্য মোট ৪টি গেট রাখা হয়। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য একটি এবং সাধারণ মুসল্লিদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ছিল।
  • বহির্গমন পথ: নামাজ শেষে মুসল্লিরা যাতে সহজে ও নিরাপদে বের হতে পারেন, সে জন্য মোট ৭টি বহির্গমন পথ রাখা হয়। এর মধ্যে সাধারণ পুরুষদের জন্য ৫টি, নারীদের জন্য ১টি এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য ১টি পথ নির্ধারণ করা ছিল।