পানির দরেও বিক্রি নেই চামড়া: সড়ক-নদীর পাশে স্তূপ, হতাশায় ব্যবসায়ীরা
পানির দরেও বিক্রি নেই চামড়া: সড়ক-নদীর পাশে স্তূপ, হতাশায় ব্যবসায়ীরা
বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা কোরবানির ঈদের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা চামড়ার বাজারে চরম অস্থিরতা ও ধস দেখা দিয়েছে। নামমাত্র দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কোথাও কোথাও ক্রেতাই মিলছে না। ফলে বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে, নদীর ধারে ও খোলা জায়গায় শত শত চামড়া স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। এমনকি দুর্গন্ধ ও লোকসান এড়াতে বিভিন্ন জায়গায় চামড়া মাটিচাপা দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
সিন্ডিকেটের কবলে বাজার, উঠছে না খরচ
মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করায় বাজারে এই চরম বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। প্রতি পিস চামড়ায় যে দাম মিলছে, তাতে তাদের প্রাথমিক খরচও উঠছে না।
- রাজধানীর পোস্তায় বড় গরুর চামড়া বিক্রি করতে আসা ব্যবসায়ীরা জানান, একটি ভালো মানের বড় চামড়ার দাম সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা বলা হচ্ছে।
- চামড়ায় সামান্য কাটা বা ছিদ্র থাকলে দাম এক লাফে নেমে যাচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকায়।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হতাশাজনক চিত্র
সাতক্ষীরায় মাটিচাপা দেওয়া হচ্ছে চামড়া সাতক্ষীরায় কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি না হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। বিক্রি করতে না পেরে লোকসান ও দুর্গন্ধের হাত থেকে বাঁচতে জেলার বিভিন্ন স্থানে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার খবর পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্নান কবীর বলেন, “চামড়া একটি জাতীয় সম্পদ। এভাবে চামড়া অবিক্রীত থেকে নষ্ট হওয়া বা মাটিতে পুঁতে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক। চামড়া সংরক্ষণের জন্য স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত লবণের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দ্রুত ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে আড়তদারদের সমন্বয় করা জরুরি।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাস্তায় চামড়ার স্তূপ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কোরবানির চামড়া কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বাড়ি বাড়ি ঘুরে চামড়া কেনার পর এখন ক্রেতার অপেক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে চামড়ার স্তূপের সামনে বসে হতাশায় সময় পার করছেন তারা। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শতাধিক ব্যবসায়ীকে শত শত কাঁচা চামড়া নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।
সিরাজগঞ্জ ও চট্টগ্রামে ধস
- সিরাজগঞ্জ: তাড়াশে চামড়ার বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। কোরবানির পর দুপুর থেকে চামড়া সংগ্রহ করা হলেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। অনেকে বাধ্য হয়ে উপজেলা সদরে চামড়া নিয়ে আসেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান।
- চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের চিত্রও একই রকম। বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা শত শত গরুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়ার আশা থাকলেও তা পূরণ হয়নি। ফলে কেউ চামড়া রাস্তায় ফেলে গেছেন, কেউ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করেছেন, আবার কেউ জোর করে আড়তে চামড়া জমা দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।





















