কোটি কোটি টাকা কোথায় গেল? আসিফ ও হাসনাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং তাঁদের কড়া জবাব
বেঙ্গল আই ডেস্ক | কুমিল্লা কুমিল্লার জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার করা কোটি কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে এখন দেশজুড়ে তুমুল আলোচনা চলছে। অভিযোগের তীরে বিদ্ধ হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তবে এই দুই নেতার দাবি, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি, বরং সরকারি বিধি মোতাবেক উন্নয়ন প্রকল্পেই এসব অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
যেভাবে অভিযোগের সূত্রপাত
শনিবার (৩০ মে) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া।
তিনি অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে মুরাদনগরের জন্য আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা এবং দেবিদ্বারের জন্য হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন।
‘প্রকল্পের বরাদ্দকে ব্যক্তিগত অর্থ হিসেবে উপস্থাপন বিভ্রান্তিকর’
এই অভিযোগের পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এর কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন:
- কোন অর্থ এডিপির (ADP) আর কোনটি রাজস্ব খাতের, সেটি আগে পরিষ্কারভাবে জানতে হবে।
- মন্ত্রণালয় থেকে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা জেলা পরিষদের মাধ্যমে মুরাদনগর ও দেবিদ্বারেও সেই বরাদ্দ পৌঁছেছে।
- এসব অর্থ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সম্পূর্ণ বিধি মোতাবেক ব্যয় হয়েছে এবং এর সব নথিপত্র জেলা পরিষদে সংরক্ষিত রয়েছে।
- প্রকল্পভিত্তিক সরকারি বরাদ্দকে ‘ব্যক্তিগত অর্থ গ্রহণ’ হিসেবে উপস্থাপন করা চরম বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
‘১০ কোটি নয়, বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি’
অন্যদিকে, এক ভিডিও বার্তায় এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খণ্ডন করে বলেন:
- স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
- দেবিদ্বারের জন্য ১০ কোটি নয়, বরং ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এটি এডিপি প্রকল্পের আওতায় ব্যয় হয়েছে, জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
- প্রশাসক এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন, যেন আমরা ব্যক্তিগতভাবে টাকা পকেটে নিয়েছি। অথচ বাস্তবে অর্থটি জনকল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেই ব্যয় করা হয়েছে।
তদন্তের হুঁশিয়ারি দিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক
নেতাদের এমন ব্যাখ্যার পর শনিবার রাতে জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া আবারও নিজের অবস্থানে অনড় থেকে জানান, অর্থ নিজস্ব রাজস্ব তহবিলের হোক বা এডিপির বিশেষ বরাদ্দ—সবই জনগণের ও সরকারি অর্থ।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ওই দুই উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দের আওতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করা হবে। তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















