০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা তামাক ও নিকোটিনের ভয়াল থাবা থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৩১ মে) ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে শনিবার (৩০ মে) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এ কথা জানান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারণ করা এবারের তামাকমুক্ত দিবসের প্রতিপাদ্য হলো—‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’।

তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ২০০৩ সালে এফসিটিসি-তে (FCTC) স্বাক্ষর, ২০০৪ সালে অনুসমর্থন এবং ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। এর ধারাবাহিকতায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করতে এতে সংশোধন আনা হয়েছে।”

তামাকের প্রলোভন থেকে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকার যেসব কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, বাণীতে তার বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী:

  • তামাকজাত দ্রব্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রমোশন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
  • প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অ্যাপস, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং নাটক-সিনেমাসহ সব মাধ্যমেই তামাকের প্রচারণা নিষিদ্ধ।
  • করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাক কোম্পানির যেকোনো প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ।
  • ১৮ বছরের নিচে কারও কাছে তামাক ও নিকোটিন পণ্য বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
  • পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ভয়াবহ পরিসংখ্যান

তামাকে থাকা নিকোটিনের মারাত্মক আসক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা, গুলসহ যেকোনো তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার এবং ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগসহ অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে বাণীতে বলা হয়, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটে অসংক্রামক রোগে, যার অন্যতম প্রধান কারণ তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার। ‘টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০২৫’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৯৯ হাজারেরও বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেন।

অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব

শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিই নয়, তামাকের কারণে দেশের অর্থনীতিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণার বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, তামাক ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্য ব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনীতিতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নতুন বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি। জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।” বাণীতে তিনি ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৯:১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
৬৭ Time View

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৯:১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা তামাক ও নিকোটিনের ভয়াল থাবা থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৩১ মে) ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে শনিবার (৩০ মে) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এ কথা জানান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারণ করা এবারের তামাকমুক্ত দিবসের প্রতিপাদ্য হলো—‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’।

তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ২০০৩ সালে এফসিটিসি-তে (FCTC) স্বাক্ষর, ২০০৪ সালে অনুসমর্থন এবং ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। এর ধারাবাহিকতায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করতে এতে সংশোধন আনা হয়েছে।”

তামাকের প্রলোভন থেকে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকার যেসব কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, বাণীতে তার বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী:

  • তামাকজাত দ্রব্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রমোশন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
  • প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অ্যাপস, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং নাটক-সিনেমাসহ সব মাধ্যমেই তামাকের প্রচারণা নিষিদ্ধ।
  • করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাক কোম্পানির যেকোনো প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ।
  • ১৮ বছরের নিচে কারও কাছে তামাক ও নিকোটিন পণ্য বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
  • পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ভয়াবহ পরিসংখ্যান

তামাকে থাকা নিকোটিনের মারাত্মক আসক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা, গুলসহ যেকোনো তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার এবং ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগসহ অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে বাণীতে বলা হয়, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটে অসংক্রামক রোগে, যার অন্যতম প্রধান কারণ তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার। ‘টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০২৫’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৯৯ হাজারেরও বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেন।

অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব

শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিই নয়, তামাকের কারণে দেশের অর্থনীতিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণার বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, তামাক ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্য ব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনীতিতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নতুন বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি। জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।” বাণীতে তিনি ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।