০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৫ কোটি টাকার অভিযোগ: ‘পকেটে নয়, টাকা ব্যয় হয়েছে উপজেলার উন্নয়নে’—জবাব দিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

বেঙ্গল আই ডেস্ক | কুমিল্লা কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের করা কোটি কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা এবং কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক যে টাকার কথা বলেছেন, সেটি মূলত উপজেলার জন্য বাজেট বরাদ্দ। ওই টাকা তাকে ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া হয়নি, বরং তা উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় হয়েছে।

যেভাবে অভিযোগের সূত্রপাত

শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেন:

  • এনসিপির মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন।
  • এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা।

‘ব্যক্তিকে নয়, বাজেট দেওয়া হয়েছে উপজেলাকে’

জেলা পরিষদ প্রশাসকের এই অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, “জেলা পরিষদের প্রশাসক যে কথা বলেছেন, তিনি সেটি দ্বারা উপজেলার জন্য বাজেট নেওয়ার কথা বুঝিয়েছেন। আর উপজেলার জন্য বাজেটের টাকা তো আমাকে দেওয়া হয়নি। এ বাজেট তো কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না, দেওয়া হয়েছে উপজেলাকে।”

দেবীদ্বার উপজেলাকে কোন কোন খাতে বা কোন কাজে টাকা দেওয়া হয়েছে, তার সম্পূর্ণ তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে সংরক্ষিত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, “উপজেলাও সে টাকা কোন খাতে কত টাকা, কোথায় খরচ করেছে, সে হিসাব আছে। তারা সেটি প্রকাশ করুক।”

‘মানুষের জন্য ভিক্ষা চাইতেও আপত্তি নেই’

নিজের উপজেলার উন্নয়নের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের কথা জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমি আমার উপজেলার মানুষের জন্য কোথাও যদি কোনো কিছু ভিক্ষা চাইতেও হয়, সেটি নিয়েও আমার আপত্তি নাই। কারণ, আমি তো আমার জন্য চাচ্ছি না। আমি মানুষের জন্য চাচ্ছি।”

রাজস্ব খাত নয়, এডিপি প্রকল্পের বরাদ্দ

বরাদ্দের উৎস সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে দাবি করে এনসিপির এই নেতা জানান, এই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে।

  • তিনি উল্লেখ করেন, দেবীদ্বার উপজেলাকে ১০ কোটি নয়, বরং ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
  • এই অর্থ এডিপি (ADP) প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব খাতের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “উনি এমনভাবে বলেছেন মনে হচ্ছে, টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবীদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উনি বলেছেন, রাজস্ব খাত থেকে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটি তো রাজস্ব খাতের বরাদ্দ নয়, এডিপি প্রকল্পের বরাদ্দ।”

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১০:৩৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
৫৮ Time View

২৫ কোটি টাকার অভিযোগ: ‘পকেটে নয়, টাকা ব্যয় হয়েছে উপজেলার উন্নয়নে’—জবাব দিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

Update Time : ১০:৩৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | কুমিল্লা কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের করা কোটি কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা এবং কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক যে টাকার কথা বলেছেন, সেটি মূলত উপজেলার জন্য বাজেট বরাদ্দ। ওই টাকা তাকে ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া হয়নি, বরং তা উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় হয়েছে।

যেভাবে অভিযোগের সূত্রপাত

শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেন:

  • এনসিপির মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন।
  • এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা।

‘ব্যক্তিকে নয়, বাজেট দেওয়া হয়েছে উপজেলাকে’

জেলা পরিষদ প্রশাসকের এই অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, “জেলা পরিষদের প্রশাসক যে কথা বলেছেন, তিনি সেটি দ্বারা উপজেলার জন্য বাজেট নেওয়ার কথা বুঝিয়েছেন। আর উপজেলার জন্য বাজেটের টাকা তো আমাকে দেওয়া হয়নি। এ বাজেট তো কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না, দেওয়া হয়েছে উপজেলাকে।”

দেবীদ্বার উপজেলাকে কোন কোন খাতে বা কোন কাজে টাকা দেওয়া হয়েছে, তার সম্পূর্ণ তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে সংরক্ষিত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, “উপজেলাও সে টাকা কোন খাতে কত টাকা, কোথায় খরচ করেছে, সে হিসাব আছে। তারা সেটি প্রকাশ করুক।”

‘মানুষের জন্য ভিক্ষা চাইতেও আপত্তি নেই’

নিজের উপজেলার উন্নয়নের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের কথা জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমি আমার উপজেলার মানুষের জন্য কোথাও যদি কোনো কিছু ভিক্ষা চাইতেও হয়, সেটি নিয়েও আমার আপত্তি নাই। কারণ, আমি তো আমার জন্য চাচ্ছি না। আমি মানুষের জন্য চাচ্ছি।”

রাজস্ব খাত নয়, এডিপি প্রকল্পের বরাদ্দ

বরাদ্দের উৎস সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে দাবি করে এনসিপির এই নেতা জানান, এই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে।

  • তিনি উল্লেখ করেন, দেবীদ্বার উপজেলাকে ১০ কোটি নয়, বরং ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
  • এই অর্থ এডিপি (ADP) প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব খাতের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “উনি এমনভাবে বলেছেন মনে হচ্ছে, টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবীদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উনি বলেছেন, রাজস্ব খাত থেকে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটি তো রাজস্ব খাতের বরাদ্দ নয়, এডিপি প্রকল্পের বরাদ্দ।”