০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা: সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিচার শুরু, সাক্ষ্যগ্রহণ মঙ্গলবার

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও মর্মান্তিক হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে আলোচিত এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হলো।

মঙ্গলবার থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের এই আদেশ দেন।

  • একই সঙ্গে আদালত আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন) মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করেছেন।
  • এর আগে সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে করে আসামিদের আদালতে আনা হয়।
  • শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল রহমান দুলু আসামিদের সামনে অভিযোগপত্র পড়ে শোনান।

যেভাবে ঘটেছিল নির্মম এই হত্যাকাণ্ড

মামলার নথিপত্র ও পুলিশ সূত্রে রামিসা হত্যাকাণ্ডের যে ভয়াবহ বিবরণ পাওয়া যায়:

  • গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামি সোহেল রানা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে যায়।
  • পরে স্কুলে যাওয়ার জন্য রামিসাকে খুঁজতে খুঁজতে তার মা আসামিদের কক্ষের সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান।
  • বাইরে থেকে ডাক দিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।
  • এ সময় সোহেল ও স্বপ্না আক্তারের শোবার ঘরে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতর তার ছিন্ন মাথা দেখতে পান তারা। তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।

মামলা দায়ের ও আসামিদের স্বীকারোক্তি

নির্মম এই ঘটনার দিনই শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

  • মামলার পরপরই পুলিশ প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে।
  • পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে আটক করা হয়।
  • গ্রেপ্তারের পরদিন ২০ মে সোহেল রানা আদালতে নিজের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ওই দিনই স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১২:২৬:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
৭০ Time View

পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা: সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিচার শুরু, সাক্ষ্যগ্রহণ মঙ্গলবার

Update Time : ১২:২৬:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও মর্মান্তিক হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে আলোচিত এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হলো।

মঙ্গলবার থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের এই আদেশ দেন।

  • একই সঙ্গে আদালত আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন) মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করেছেন।
  • এর আগে সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে করে আসামিদের আদালতে আনা হয়।
  • শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল রহমান দুলু আসামিদের সামনে অভিযোগপত্র পড়ে শোনান।

যেভাবে ঘটেছিল নির্মম এই হত্যাকাণ্ড

মামলার নথিপত্র ও পুলিশ সূত্রে রামিসা হত্যাকাণ্ডের যে ভয়াবহ বিবরণ পাওয়া যায়:

  • গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামি সোহেল রানা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে যায়।
  • পরে স্কুলে যাওয়ার জন্য রামিসাকে খুঁজতে খুঁজতে তার মা আসামিদের কক্ষের সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান।
  • বাইরে থেকে ডাক দিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।
  • এ সময় সোহেল ও স্বপ্না আক্তারের শোবার ঘরে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতর তার ছিন্ন মাথা দেখতে পান তারা। তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।

মামলা দায়ের ও আসামিদের স্বীকারোক্তি

নির্মম এই ঘটনার দিনই শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

  • মামলার পরপরই পুলিশ প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে।
  • পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে আটক করা হয়।
  • গ্রেপ্তারের পরদিন ২০ মে সোহেল রানা আদালতে নিজের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ওই দিনই স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।