০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘লীগের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়া প্রজন্মের সামনেই আসল বিপদ’: মাহফুজ আলম

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা মাহফুজ আলম বলেছেন, লীগ প্রশ্নে এখন যা চলছে তা মূলত দুটি বড় দলের ‘ইনসিকিউরিটি’ বা নিরাপত্তাহীনতা। তাঁর মতে, লীগের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এ প্রজন্মের যারা লড়াই করেছে, আসল বিপদ তাদের সামনেই।

সোমবার (১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

বড় দুই দলের ‘ইনসিকিউরিটি’ ও অতীত স্মৃতি

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মাহফুজ আলম তাঁর পোস্টে লেখেন, “লীগ প্রশ্নে এখন যা চলছে, তা হচ্ছে দুই বড় দলের ইনসিকিউরিটি। কৌন বনেগা লীগকা বাপ? ‘৮৬ আর ‘৯৬-এর স্মৃতি বিএনপি ভুলতে পারছে না। আর জামায়াত আছে আদর্শিক শত্রুতা বা সহিংসতার ভয়ে, যা বিএনপি-লীগের ‘৯০ দশকের যৌথ আক্রমণের স্মৃতি থেকে উৎসারিত। স্মৃতি ভয়ের উৎস বটে!”

তরুণ প্রজন্মের প্রতি সতর্কবার্তা ও করণীয়

আগামীর রাজনীতির চিত্র তুলে ধরে তরুণ প্রজন্মের বিপদের কথা উল্লেখ করেন মাহফুজ আলম। তিনি লেখেন:

  • “আগামীতে বিএনপি (আল্লাহ না করুক) ক্ষমতায় থেকে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’ করে নিবে আর জামায়াত চুপ মেরে গুপ্ত হয়ে যাবে। আসল বিপদ এ প্রজন্মের যারা লীগের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তাদের। সে বিপদ আরো ত্বরান্বিত হয়েছে জামায়াত জোটে যাওয়ায়। নগদ যা লাভ হয়েছিল, সেটাকেও বড় করার কোন চিহ্ন দেখা গেল না।”
  • তরুণ প্রজন্মের ক্ষুদ্র স্বার্থে বিভক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “দুঃখজনক হলো, এ প্রজন্ম ব্যস্ত নিজেদের হাতের তালুর চেয়ে ছোট রুটি ভাগাভাগিতে। রুটিটা বড় করেন। আপনাদের তাকদ আছে এ জাতিকে, গ্লোবাল সাউথকে লিড দেওয়ার। সেইটা করেন।”
  • তিনি তরুণদের যার যার প্ল্যাটফর্ম থেকে সংগঠিত হওয়ার, প্রতিষ্ঠান গড়ার এবং রাজনীতি ও সমাজে প্রভাব তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদি লড়াই ও সংহতির পাটাতন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

‘বড়রা হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে এ প্রজন্মকে’

অতীতে তরুণদের কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মাহফুজ আলম লেখেন, “বড়দের আস্কারা-উস্কানিতে অনেক শক্তিক্ষয় হয়েছে। বড়রা হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে এ প্রজন্মকে। সাথে ছোটদের কোরাম আর মতাদর্শভিত্তিক একপাক্ষিক বয়ানও সক্রিয় ছিল, আছে। এভাবেই খেয়ে ফেলা হয় তরুণদের। সেটা ‘৭০-এর দশকে, ‘৯০-এর দশকেও ঘটেছে।”

‘জুলাই আর অ্যান্টি-ফ্যাসিজম হোক কেবলা’

নিজের প্রজন্মের প্রতি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই উপদেষ্টা লেখেন, “লড়াইটা প্রজন্মের। আগের প্রজন্ম আপনাদের বাঁচাবে না। সিম্পল কথা। এটা খেয়াল রেখে কৌশল নির্ধারণ করুন।”

মতাদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও মূল লক্ষ্য অবিচল রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “যার যার ইমাম, খতিব, ফেরকা, তরিকা বানান, সমস্যা নাই। নিজেদের মধ্যে ব্যক্তি আক্রমণ আর বিদ্বেষচর্চা বন্ধ করেন। মতাদর্শের তর্ক তো হবেই, হোক। কিন্তু, কেবলা রাখেন জুলাই আর অ্যান্টি-ফ্যাসিজম।”

সবশেষে পুনশ্চ দিয়ে তিনি লেখেন, “আমরা ফ্যাসিস্ট লীগ তাড়াইছি নিশ্চিত মৃত্যু জেনে। সেই সাহসের সাথে এখন সাংগঠনিক শক্তি আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যুক্ত করেন। ফ্যাসিবাদ কোনো ফর্মেই আর ফিরতে পারবে না।”

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১০:১২:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
৬২ Time View

‘লীগের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়া প্রজন্মের সামনেই আসল বিপদ’: মাহফুজ আলম

Update Time : ১০:১২:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা মাহফুজ আলম বলেছেন, লীগ প্রশ্নে এখন যা চলছে তা মূলত দুটি বড় দলের ‘ইনসিকিউরিটি’ বা নিরাপত্তাহীনতা। তাঁর মতে, লীগের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এ প্রজন্মের যারা লড়াই করেছে, আসল বিপদ তাদের সামনেই।

সোমবার (১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

বড় দুই দলের ‘ইনসিকিউরিটি’ ও অতীত স্মৃতি

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মাহফুজ আলম তাঁর পোস্টে লেখেন, “লীগ প্রশ্নে এখন যা চলছে, তা হচ্ছে দুই বড় দলের ইনসিকিউরিটি। কৌন বনেগা লীগকা বাপ? ‘৮৬ আর ‘৯৬-এর স্মৃতি বিএনপি ভুলতে পারছে না। আর জামায়াত আছে আদর্শিক শত্রুতা বা সহিংসতার ভয়ে, যা বিএনপি-লীগের ‘৯০ দশকের যৌথ আক্রমণের স্মৃতি থেকে উৎসারিত। স্মৃতি ভয়ের উৎস বটে!”

তরুণ প্রজন্মের প্রতি সতর্কবার্তা ও করণীয়

আগামীর রাজনীতির চিত্র তুলে ধরে তরুণ প্রজন্মের বিপদের কথা উল্লেখ করেন মাহফুজ আলম। তিনি লেখেন:

  • “আগামীতে বিএনপি (আল্লাহ না করুক) ক্ষমতায় থেকে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’ করে নিবে আর জামায়াত চুপ মেরে গুপ্ত হয়ে যাবে। আসল বিপদ এ প্রজন্মের যারা লীগের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তাদের। সে বিপদ আরো ত্বরান্বিত হয়েছে জামায়াত জোটে যাওয়ায়। নগদ যা লাভ হয়েছিল, সেটাকেও বড় করার কোন চিহ্ন দেখা গেল না।”
  • তরুণ প্রজন্মের ক্ষুদ্র স্বার্থে বিভক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “দুঃখজনক হলো, এ প্রজন্ম ব্যস্ত নিজেদের হাতের তালুর চেয়ে ছোট রুটি ভাগাভাগিতে। রুটিটা বড় করেন। আপনাদের তাকদ আছে এ জাতিকে, গ্লোবাল সাউথকে লিড দেওয়ার। সেইটা করেন।”
  • তিনি তরুণদের যার যার প্ল্যাটফর্ম থেকে সংগঠিত হওয়ার, প্রতিষ্ঠান গড়ার এবং রাজনীতি ও সমাজে প্রভাব তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদি লড়াই ও সংহতির পাটাতন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

‘বড়রা হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে এ প্রজন্মকে’

অতীতে তরুণদের কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মাহফুজ আলম লেখেন, “বড়দের আস্কারা-উস্কানিতে অনেক শক্তিক্ষয় হয়েছে। বড়রা হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে এ প্রজন্মকে। সাথে ছোটদের কোরাম আর মতাদর্শভিত্তিক একপাক্ষিক বয়ানও সক্রিয় ছিল, আছে। এভাবেই খেয়ে ফেলা হয় তরুণদের। সেটা ‘৭০-এর দশকে, ‘৯০-এর দশকেও ঘটেছে।”

‘জুলাই আর অ্যান্টি-ফ্যাসিজম হোক কেবলা’

নিজের প্রজন্মের প্রতি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই উপদেষ্টা লেখেন, “লড়াইটা প্রজন্মের। আগের প্রজন্ম আপনাদের বাঁচাবে না। সিম্পল কথা। এটা খেয়াল রেখে কৌশল নির্ধারণ করুন।”

মতাদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও মূল লক্ষ্য অবিচল রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “যার যার ইমাম, খতিব, ফেরকা, তরিকা বানান, সমস্যা নাই। নিজেদের মধ্যে ব্যক্তি আক্রমণ আর বিদ্বেষচর্চা বন্ধ করেন। মতাদর্শের তর্ক তো হবেই, হোক। কিন্তু, কেবলা রাখেন জুলাই আর অ্যান্টি-ফ্যাসিজম।”

সবশেষে পুনশ্চ দিয়ে তিনি লেখেন, “আমরা ফ্যাসিস্ট লীগ তাড়াইছি নিশ্চিত মৃত্যু জেনে। সেই সাহসের সাথে এখন সাংগঠনিক শক্তি আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যুক্ত করেন। ফ্যাসিবাদ কোনো ফর্মেই আর ফিরতে পারবে না।”