স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের শঙ্কায় বিএনপি
বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা
আগামী অক্টোবর মাস থেকে দেশে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আসন্ন এই স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলো এরই মধ্যে ব্যাপক তৎপর হয়ে উঠেছে। তবে, দলীয় প্রতীক না থাকায় একক প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী ও ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মাঠে সক্রিয় অন্যান্য দল, চিন্তায় বিএনপি
ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বেশ কিছু আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছে।
- অন্যদিকে, বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা মনে করছেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হওয়ায় দলের একক প্রার্থী নির্ধারণ করা অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব হয়ে পড়বে।
- এতে স্থানীয় পর্যায়ে নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, প্রভাব বিস্তার ও সংঘর্ষের ঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে যা বললেন রিজভী
নির্বাচনি প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, “সরকারপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন শিগগিরই হবে বলে জানিয়েছেন এবং প্রার্থীদের প্রস্তুতি নিতেও বলেছেন। যদিও নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারা প্রস্তুতি নিয়ে তফসিল ঘোষণা করবে। তবে রাজনৈতিক দলগুলো যার যার অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নেবে—এটাই স্বাভাবিক।”
তারেক রহমানের কড়া বার্তা ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ
জানা যায়, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। গত ৯ মে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) দলের তিনটি সহযোগী সংগঠন—যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এবং জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভা করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
- ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটিই ছিল দলটির সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক সভা।
- ওই বৈঠকে তারেক রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করার কড়া বার্তা দেন।
- জাতীয় নির্বাচনে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে অর্ধশতাধিক নেতার বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার বিষয়টিও সেখানে উঠে আসে।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিরুৎসাহিত করতে ইতোমধ্যে বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানাবেন। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সংশয়, দলীয় আহ্বানের পরও তৃণমূল নেতারা শেষ পর্যন্ত একমত হতে পারবেন কি না।
বিএনপির সামনে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, দলীয় প্রতীক না থাকায় নির্বাচনে প্রার্থীর ‘ব্যক্তিগত ইমেজ’ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগের অপেক্ষাকৃত ‘ক্লিন ইমেজ’ সম্পন্ন প্রভাবশালী নেতারাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকতে পারেন।
- বিগত সরকারের আমলের সিটি ও পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলরদের বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ভেঙে দেওয়া হয়েছে জেলা ও উপজেলা পরিষদ।
- ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা বহাল থাকলেও বেশির ভাগই পলাতক। ফলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে পৌরসভা, উপজেলা এবং সবশেষে সিটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই নির্বাচনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে থাকলে ভোট ভাগাভাগির সেই সুবিধা প্রতিপক্ষই নেবে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।
অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে নির্বাচন
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নির্বাচনের সময়কাল সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পর অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। আগামী এক বছরের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন করার সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।





















