০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদ জিয়ার সার্ক নীতি ও বহুপক্ষীয় কূটনীতিই বর্তমান সরকারের প্রধান পথ: তথ্যমন্ত্রী

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশীয় ও বৈশ্বিক বাস্তবতায় কোনো শত্রু তৈরি না করে সর্বত্র মিত্র তৈরি করেছিলেন। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারের কাছে শহীদ জিয়ার সার্ক নীতি এবং বহুপক্ষীয় স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে চলার নির্জোট রাজনীতিই প্রধান পররাষ্ট্রনীতি বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পিআইবিতে আলোচনা সভা

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে পিআইবি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

  • অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
  • অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।

তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্লেষণ করে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র ও অর্থনীতি পরিচালনা করতে কিছু অনিবার্য উপাদানের ওপর দাঁড়াতে হচ্ছে। তিনি দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেন:

  • আমাদের আমদানির প্রধান উৎস চীন ও ভারত। অপরদিকে তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রধান গন্তব্য আমেরিকা ও ইউরোপ।
  • রেমিট্যান্সের মূল উৎস মধ্যপ্রাচ্য এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিরাপত্তার জন্য কাতার ও রাশিয়ার নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট প্রজেক্টের ওপর নির্ভরশীল।
  • এই বাস্তবতায় আমাদের এমন একটি স্বাধীন নীতি অবলম্বন করতে হবে, যা এই বিপরীতমুখী সবকটি উপাদানকে একসঙ্গে সমন্বয় করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতকে সঙ্গে নিয়ে সার্ক গঠনের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলোকে একটি আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক কাঠামোতে রূপান্তর করেছিলেন। তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সঞ্জীব রেড্ডি শহীদ জিয়াকে দেওয়া সংবর্ধনায় লিখিতভাবে তাঁকে বাংলাদেশের ‘মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। অথচ একটি রাজনৈতিক দল ও তাদের বলয়ের বুদ্ধিজীবীরা এখনো তা স্বীকার করতে চায় না।

‘জিয়াউর রহমানের সময়কাল ছিল কূটনীতির স্বর্ণযুগ’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশ ও দেশের স্বার্থকে কোথায় নিয়ে যেতে পেরেছেন, সেটিই নেতৃত্বের আসল মাপকাঠি। সেই মাপকাঠিতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ছিল অত্যন্ত সফল এবং তাঁর সময়কাল ছিল বাংলাদেশের কূটনীতির এক স্বর্ণযুগ।”

আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রুশদ বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রথম সম্মুখ বিদ্রোহটি করেছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা হিসেবে দেশের সকল জাতিসত্তাকে এক সুতোয় বেঁধেছিলেন।

উপস্থিত ছিলেন যাঁরা

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান। আলোচনায় অংশ নেন ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বাসস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, ডেইলি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, বিআইপিএসএসে’র সিনিয়র ফেলো শাফাকাত মনির, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়ারেস করিমসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১২:০২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
৫৬ Time View

শহীদ জিয়ার সার্ক নীতি ও বহুপক্ষীয় কূটনীতিই বর্তমান সরকারের প্রধান পথ: তথ্যমন্ত্রী

Update Time : ১২:০২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশীয় ও বৈশ্বিক বাস্তবতায় কোনো শত্রু তৈরি না করে সর্বত্র মিত্র তৈরি করেছিলেন। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারের কাছে শহীদ জিয়ার সার্ক নীতি এবং বহুপক্ষীয় স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে চলার নির্জোট রাজনীতিই প্রধান পররাষ্ট্রনীতি বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পিআইবিতে আলোচনা সভা

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে পিআইবি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

  • অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
  • অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।

তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্লেষণ করে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র ও অর্থনীতি পরিচালনা করতে কিছু অনিবার্য উপাদানের ওপর দাঁড়াতে হচ্ছে। তিনি দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেন:

  • আমাদের আমদানির প্রধান উৎস চীন ও ভারত। অপরদিকে তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রধান গন্তব্য আমেরিকা ও ইউরোপ।
  • রেমিট্যান্সের মূল উৎস মধ্যপ্রাচ্য এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিরাপত্তার জন্য কাতার ও রাশিয়ার নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট প্রজেক্টের ওপর নির্ভরশীল।
  • এই বাস্তবতায় আমাদের এমন একটি স্বাধীন নীতি অবলম্বন করতে হবে, যা এই বিপরীতমুখী সবকটি উপাদানকে একসঙ্গে সমন্বয় করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতকে সঙ্গে নিয়ে সার্ক গঠনের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলোকে একটি আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক কাঠামোতে রূপান্তর করেছিলেন। তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সঞ্জীব রেড্ডি শহীদ জিয়াকে দেওয়া সংবর্ধনায় লিখিতভাবে তাঁকে বাংলাদেশের ‘মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। অথচ একটি রাজনৈতিক দল ও তাদের বলয়ের বুদ্ধিজীবীরা এখনো তা স্বীকার করতে চায় না।

‘জিয়াউর রহমানের সময়কাল ছিল কূটনীতির স্বর্ণযুগ’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশ ও দেশের স্বার্থকে কোথায় নিয়ে যেতে পেরেছেন, সেটিই নেতৃত্বের আসল মাপকাঠি। সেই মাপকাঠিতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ছিল অত্যন্ত সফল এবং তাঁর সময়কাল ছিল বাংলাদেশের কূটনীতির এক স্বর্ণযুগ।”

আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রুশদ বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রথম সম্মুখ বিদ্রোহটি করেছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা হিসেবে দেশের সকল জাতিসত্তাকে এক সুতোয় বেঁধেছিলেন।

উপস্থিত ছিলেন যাঁরা

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান। আলোচনায় অংশ নেন ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বাসস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, ডেইলি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, বিআইপিএসএসে’র সিনিয়র ফেলো শাফাকাত মনির, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়ারেস করিমসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।