০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসার ওপর বর্বরতা: আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আগামীকাল

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর মামলার রায় আগামীকাল ঘোষণা করা হবে।

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এই মামলার রায়ের দিন ধার্য করেন।

দ্রুততম সময়ে বিচারকাজ সম্পন্ন

আদালত সূত্রে জানা যায়, অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচারকাজ এগিয়েছে:

  • গত সোমবার আদালত প্রধান আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আনুষ্ঠানিক আদেশ দেন।
  • পরদিন চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত সাক্ষ্য পর্ব সমাপ্ত করেন।
  • আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামিরা আদালতে নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।
  • এর আগে, গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেয়। একই দিনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

যেভাবে ঘটেছিল সেই রোমহর্ষক ঘটনা

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ভিকটিম শিশু রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

  • গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটের ভেতরে নিয়ে যায়।
  • সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তিনি।
  • ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং আশপাশের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
  • এ সময় আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন লাশ এবং রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে তার খণ্ডিত মাথা দেখতে পান তারা।

৯৯৯-এ কল ও আসামি গ্রেপ্তার

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে কল পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ এবং আসামি স্বপ্নাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এই বর্বরোচিত ঘটনায় গত ২০ মে ভিকটিমের বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আগামীকালের রায়ে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছেন নিহত শিশুর পরিবার ও দেশবাসী।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১১:০১:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
৫৬ Time View

রামিসার ওপর বর্বরতা: আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আগামীকাল

Update Time : ১১:০১:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর মামলার রায় আগামীকাল ঘোষণা করা হবে।

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এই মামলার রায়ের দিন ধার্য করেন।

দ্রুততম সময়ে বিচারকাজ সম্পন্ন

আদালত সূত্রে জানা যায়, অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচারকাজ এগিয়েছে:

  • গত সোমবার আদালত প্রধান আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আনুষ্ঠানিক আদেশ দেন।
  • পরদিন চার্জশিটভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত সাক্ষ্য পর্ব সমাপ্ত করেন।
  • আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামিরা আদালতে নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।
  • এর আগে, গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেয়। একই দিনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

যেভাবে ঘটেছিল সেই রোমহর্ষক ঘটনা

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ভিকটিম শিশু রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

  • গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটের ভেতরে নিয়ে যায়।
  • সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তিনি।
  • ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং আশপাশের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
  • এ সময় আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন লাশ এবং রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে তার খণ্ডিত মাথা দেখতে পান তারা।

৯৯৯-এ কল ও আসামি গ্রেপ্তার

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে কল পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ এবং আসামি স্বপ্নাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এই বর্বরোচিত ঘটনায় গত ২০ মে ভিকটিমের বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আগামীকালের রায়ে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছেন নিহত শিশুর পরিবার ও দেশবাসী।