০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে তাঁর সুবিধাজনক একটি সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) বাংলাদেশ সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এই আমন্ত্রণ জানান। পিএমও থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কৌশলগত সম্পর্কোন্নয়নের প্রথম ধাপ

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এ সময় হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের উষ্ণ শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাঁর এই সফরটি মূলত বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ককে ‘কৌশলগত পর্যায়ে’ উন্নীত করার প্রথম পদক্ষেপ।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে যেসব সিদ্ধান্ত

দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে উভয় পক্ষ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে:

  • বার্ষিক কনসালটেশন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে প্রতিবছর ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ আয়োজনের বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে।
  • ‘টু প্লাস টু’ বৈঠক: দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর ‘টু প্লাস টু’ (২+২) পরামর্শ বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
  • পরামর্শ কমিটি গঠন: রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর অংশগ্রহণে একটি বিশেষ পরামর্শ কাঠামো বা কমিটি গঠন করা হবে।

আলোচনায় যেসব বিষয় গুরুত্ব পেল

বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে:

  • রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান
  • জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা
  • দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ
  • যৌথ উৎপাদন ও পারস্পরিক সহযোগিতা
  • আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়।

উপস্থিত ছিলেন যাঁরা

গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১০:১৬:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
৬৭ Time View

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ১০:১৬:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে তাঁর সুবিধাজনক একটি সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) বাংলাদেশ সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এই আমন্ত্রণ জানান। পিএমও থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কৌশলগত সম্পর্কোন্নয়নের প্রথম ধাপ

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এ সময় হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের উষ্ণ শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাঁর এই সফরটি মূলত বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ককে ‘কৌশলগত পর্যায়ে’ উন্নীত করার প্রথম পদক্ষেপ।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে যেসব সিদ্ধান্ত

দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে উভয় পক্ষ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে:

  • বার্ষিক কনসালটেশন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে প্রতিবছর ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ আয়োজনের বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে।
  • ‘টু প্লাস টু’ বৈঠক: দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর ‘টু প্লাস টু’ (২+২) পরামর্শ বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
  • পরামর্শ কমিটি গঠন: রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর অংশগ্রহণে একটি বিশেষ পরামর্শ কাঠামো বা কমিটি গঠন করা হবে।

আলোচনায় যেসব বিষয় গুরুত্ব পেল

বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে:

  • রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান
  • জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা
  • দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ
  • যৌথ উৎপাদন ও পারস্পরিক সহযোগিতা
  • আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়।

উপস্থিত ছিলেন যাঁরা

গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।