০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: প্রধান দুই আসামি সোহেল ও স্বপ্নার ফাঁসির রায়

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত প্রধান দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রোববার আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মৃত্যুদণ্ডের এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

অর্থদণ্ড ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি আসামিদের আর্থিক জরিমানাও করেছেন আদালত।

  • প্রধান আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
  • অপর আসামি স্বপ্নাকে (সোহেলের স্ত্রী) মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
  • এই অর্থদণ্ড ভিকটিম নিহত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারী পাবেন।
  • ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ওই অর্থ ভিকটিমের পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় পড়ার সময় বিচারক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। আদালত জানান:

  • শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
  • আসামি সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন করেনি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, সে স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করেছে।
  • স্ত্রী স্বপ্না এই বর্বরোচিত অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা করেছে এবং অপরাধ প্রতিরোধে কোনো ভূমিকাই পালন করেনি। বরং সে উল্টো তার স্বামীকে পালাতে সাহায্য করেছে।

কড়া নিরাপত্তা ও আদালতে হাজিরা

রোববার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের ব্যাপক তৎপরতা ছিল।

  • কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়।
  • এরপর সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে আনা হয়।
  • আসামিদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখার পর রায় ঘোষণার আগে এজলাসে তোলা হয়। এরপর বেলা ১১টার পর বিচারক রায় পড়া শুরু করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৭:১৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
২৯ Time View

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: প্রধান দুই আসামি সোহেল ও স্বপ্নার ফাঁসির রায়

Update Time : ০৭:১৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত প্রধান দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রোববার আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মৃত্যুদণ্ডের এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

অর্থদণ্ড ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি আসামিদের আর্থিক জরিমানাও করেছেন আদালত।

  • প্রধান আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
  • অপর আসামি স্বপ্নাকে (সোহেলের স্ত্রী) মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
  • এই অর্থদণ্ড ভিকটিম নিহত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারী পাবেন।
  • ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ওই অর্থ ভিকটিমের পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় পড়ার সময় বিচারক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। আদালত জানান:

  • শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
  • আসামি সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন করেনি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, সে স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করেছে।
  • স্ত্রী স্বপ্না এই বর্বরোচিত অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা করেছে এবং অপরাধ প্রতিরোধে কোনো ভূমিকাই পালন করেনি। বরং সে উল্টো তার স্বামীকে পালাতে সাহায্য করেছে।

কড়া নিরাপত্তা ও আদালতে হাজিরা

রোববার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের ব্যাপক তৎপরতা ছিল।

  • কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়।
  • এরপর সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে আনা হয়।
  • আসামিদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখার পর রায় ঘোষণার আগে এজলাসে তোলা হয়। এরপর বেলা ১১টার পর বিচারক রায় পড়া শুরু করেন।