০৬:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনিবন্ধিত সাংবাদিকরাই সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালাচ্ছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য (মিসইনফরমেশন) এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য (ডিসইনফরমেশন) ছড়ানোর জন্য মূলত অনিবন্ধিত সাংবাদিকরাই দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

রবিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা জানান। এ সময় ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য বন্ধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সংসদে এমপি জয়নুল আবদিন ফারুকের উদ্বেগ

অধিবেশনে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক সাংবাদিকতার নামে অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন:

  • বর্তমানে দেশের প্রায় সব উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও খুব সহজে সাংবাদিকতার কার্ড পাওয়া যাচ্ছে।
  • এসব কার্ডধারীদের অনেকেরই সাংবাদিকতা বিষয়ে ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান নেই, কেউ কেউ রিপোর্টারও নন এবং অনেকেই মেট্রিক পাশও করেননি।
  • ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা জবাবদিহি ছাড়াই যা খুশি তাই প্রচার করে যাচ্ছেন।
  • কারা এসব সাংবাদিকতার কার্ড দিচ্ছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

জয়নুল আবদিন ফারুক আরও সতর্ক করে বলেন, এ বিষয়গুলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় এনে একটি কার্যকর নীতিমালা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি। এসব অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর জবাব: বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন

সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকার ইতিমধ্যেই মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন রোধে কাজ শুরু করেছে।

অপপ্রচার রোধে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান:

  • যারা সাংবাদিক হিসেবে নিবন্ধিত নন, মূলত তারাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন।
  • এ ধরনের অপতৎপরতা বন্ধে ইতিমধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।
  • গঠিত এই টিম পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা যায় কিনা, সে বিষয়েও কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

শিগগিরই এই মনিটরিং টিমের পরিধি ও বিস্তারিত কার্যক্রম সবার সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৬:৪৬:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
৪৭ Time View

অনিবন্ধিত সাংবাদিকরাই সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালাচ্ছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

Update Time : ০৬:৪৬:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য (মিসইনফরমেশন) এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য (ডিসইনফরমেশন) ছড়ানোর জন্য মূলত অনিবন্ধিত সাংবাদিকরাই দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

রবিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা জানান। এ সময় ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য বন্ধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সংসদে এমপি জয়নুল আবদিন ফারুকের উদ্বেগ

অধিবেশনে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক সাংবাদিকতার নামে অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন:

  • বর্তমানে দেশের প্রায় সব উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও খুব সহজে সাংবাদিকতার কার্ড পাওয়া যাচ্ছে।
  • এসব কার্ডধারীদের অনেকেরই সাংবাদিকতা বিষয়ে ন্যূনতম প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান নেই, কেউ কেউ রিপোর্টারও নন এবং অনেকেই মেট্রিক পাশও করেননি।
  • ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা জবাবদিহি ছাড়াই যা খুশি তাই প্রচার করে যাচ্ছেন।
  • কারা এসব সাংবাদিকতার কার্ড দিচ্ছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

জয়নুল আবদিন ফারুক আরও সতর্ক করে বলেন, এ বিষয়গুলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় এনে একটি কার্যকর নীতিমালা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি। এসব অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর জবাব: বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন

সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকার ইতিমধ্যেই মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন রোধে কাজ শুরু করেছে।

অপপ্রচার রোধে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান:

  • যারা সাংবাদিক হিসেবে নিবন্ধিত নন, মূলত তারাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন।
  • এ ধরনের অপতৎপরতা বন্ধে ইতিমধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।
  • গঠিত এই টিম পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা যায় কিনা, সে বিষয়েও কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

শিগগিরই এই মনিটরিং টিমের পরিধি ও বিস্তারিত কার্যক্রম সবার সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।