০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হত্যারহস্য উদঘাটন: ৩০ বছর পর কবর থেকে তোলা হবে চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র লাশ

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

মৃত্যুর দীর্ঘ তিন দশক পর অবশেষে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য দেশের অমর ও জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করে নতুনভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।

বুধবার (১০ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের নির্দেশ ও সিআইডির পদক্ষেপ

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে লাশ উত্তোলনের এই যুগান্তকারী আদেশ দেন।

  • এর আগে গত ২০ মে সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে এই আবেদন করেছিলেন।
  • তিনি জানান, আদালত আবেদন মঞ্জুর করেছেন। কিছু দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষ করেই সিলেট থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হবে।

যেদিন ঘটেছিল সেই মর্মান্তিক ঘটনা

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সালমানের মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান।

  • স্ত্রী সামীরা হক ও কর্মচারীরা তখন জানান সালমান ঘুমাচ্ছেন।
  • পরিবারের সদস্যরা ফিরে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফোন করে জানানো হয়, ‘সালমান শাহর যেন কী হয়েছে, তাড়াতাড়ি আসেন।’
  • দ্রুত ফিরে তারা দেখেন সালমান তার শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন। তাকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
  • এরপর সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার প্রাঙ্গণ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

অপমৃত্যু থেকে হত্যা মামলা

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমানের মামা মোহাম্মদ আলমগীর আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যা মামলার প্রধান আসামিরা

পূর্বপরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় বেশ কয়েকজনকে সুনির্দিষ্ট আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন:

  • সালমান শাহ’র স্ত্রী সামীরা হক
  • শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই
  • লতিফা হক লুছি, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি
  • খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাবেদ, ফারুক
  • আব্দুস সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ

মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১১:৫৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
১৩৪ Time View

হত্যারহস্য উদঘাটন: ৩০ বছর পর কবর থেকে তোলা হবে চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র লাশ

Update Time : ১১:৫৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

মৃত্যুর দীর্ঘ তিন দশক পর অবশেষে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য দেশের অমর ও জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করে নতুনভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।

বুধবার (১০ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের নির্দেশ ও সিআইডির পদক্ষেপ

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে লাশ উত্তোলনের এই যুগান্তকারী আদেশ দেন।

  • এর আগে গত ২০ মে সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে এই আবেদন করেছিলেন।
  • তিনি জানান, আদালত আবেদন মঞ্জুর করেছেন। কিছু দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষ করেই সিলেট থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হবে।

যেদিন ঘটেছিল সেই মর্মান্তিক ঘটনা

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সালমানের মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান।

  • স্ত্রী সামীরা হক ও কর্মচারীরা তখন জানান সালমান ঘুমাচ্ছেন।
  • পরিবারের সদস্যরা ফিরে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফোন করে জানানো হয়, ‘সালমান শাহর যেন কী হয়েছে, তাড়াতাড়ি আসেন।’
  • দ্রুত ফিরে তারা দেখেন সালমান তার শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন। তাকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
  • এরপর সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার প্রাঙ্গণ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

অপমৃত্যু থেকে হত্যা মামলা

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমানের মামা মোহাম্মদ আলমগীর আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যা মামলার প্রধান আসামিরা

পূর্বপরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় বেশ কয়েকজনকে সুনির্দিষ্ট আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন:

  • সালমান শাহ’র স্ত্রী সামীরা হক
  • শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই
  • লতিফা হক লুছি, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি
  • খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাবেদ, ফারুক
  • আব্দুস সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ

মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।