নতুন প্রজন্ম ও ধারণার ওপর জোর: আজ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ‘সংকট মোকাবিলার’ বাজেট
বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা
বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও নানা অভ্যন্তরীণ-বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জকে সঙ্গী করে ২০ Rector-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল আকারের বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে এই বাজেট উপস্থাপন করা হবে।
দীর্ঘ ২০ বছর পর দেশ পরিচালনার দায়িত্বে এসে বাজেট ঘোষণার ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান—দুজনেরই আজ অভিষেক হতে যাচ্ছে। এটি বিএনপি সরকারের ১৭তম বাজেট। ‘নতুন ব্যবসা, নতুন ধারণা, নতুন প্রজন্ম’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়ে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবারের বাজেট।
বাজেট উপস্থাপনের আগে সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এই বাজেট অনুমোদন দেওয়া হবে।
এক নজরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট
| খাত বা বিবরণ | পরিমাণ / লক্ষ্যমাত্রা |
| বাজেটের মোট আকার (ব্যয়) | ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা |
| পরিচালন ও অন্যান্য ব্যয় | ৬ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা |
| বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) | ৩ লাখ কোটি টাকা |
| মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা | ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা |
| এনবিআর (NBR) নিয়ন্ত্রিত কর | ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা |
| নন-এনবিআর ও এনটিআর খাত | ৯১ হাজার কোটি টাকা |
| সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি | ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা |
| জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা | ৬.৫ শতাংশ |
| মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ লক্ষ্যমাত্রা | ৭.৫ শতাংশ |
রেকর্ড বৃদ্ধি: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সেই তুলনায় এবার বাজেটের আকার বাড়ানো হচ্ছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি বাজেটের চেয়ে ১৮.৭৩ শতাংশ বেশি। এটি দেশের ইতিহাসের রেকর্ড বৃদ্ধি।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও স্বাস্থ্য খাতে বড় স্বস্তির খবর
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এবং চিকিৎসাসেবা সুলভ করতে বাজেটে বড় ধরনের কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হচ্ছে:
- ৬০টি নিত্যপণ্যে কর হ্রাস: ধান, চাল, গম, আলু, পিঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্য তেল, চিনি, মাছ ও মাংসসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে করের হার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করা হচ্ছে।
- ডায়ালাইসিসের খরচ কমবে: কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ৫% অগ্রিম কর ও ১৫% ভ্যাট সম্পূর্ণ মওকুফ করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতি ডায়ালাইসিসে ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা কমবে।
- হার্টের রিং ও চোখের লেন্স: হার্টের রিং ও চোখের লেন্স সরবরাহে ১০% ভ্যাট প্রত্যাহারের ফলে রিংয়ের দাম প্রায় ২০,০০০ টাকা এবং লেন্সের দাম প্রায় ৫,০০০ টাকা কমবে।
ফ্রিল্যান্সার, স্টার্টআপ ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য অভূতপূর্ব ছাড়
ডিজিটাল অর্থনীতি ও তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে এবারের বাজেটে বড় ধরনের বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
- ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন: আইটি ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং এবং কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয়কে সম্পূর্ণ করমুক্ত ও ১৫% ভ্যাট মুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
- স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি ব্যবসা: তারুণ্যনির্ভর স্টার্টআপের ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স ০% করার পাশাপাশি স্থানীয় ভ্যাট, সেবা আমদানি ভ্যাট এবং স্থান ভাড়া ভ্যাট সম্পূর্ণরূপে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত মওকুফ করা হয়েছে।
- সিম ট্যাক্স প্রত্যাহার: সাধারণ মানুষের মোবাইল সেবা সহজলভ্য করতে প্রতিটি সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা সুনির্দিষ্ট কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
গ্রিন ইকোনমি: সৌরবিদ্যুৎ ও পরিবেশবান্ধব গাড়িতে বিশেষ প্রণোদনা
- সৌরবিদ্যুৎ: সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ০ শতাংশ করহার এবং ব্যবহারকারীদের বিল পরিশোধে ৫ শতাংশ কর রেয়াত দেওয়া হবে।
- ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (EV): দেশে পরিবেশবান্ধব ইভি বাস, ট্রাক ও চার্জিং স্টেশন আমদানির উৎসে কর ও ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ইভি গাড়ি রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নের অগ্রিম কর ২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
- জীবাশ্ম জ্বালানির গাড়িতে কড়াকড়ি: পরিবেশ দূষণ রোধে ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসি ক্ষমতার ডিজেল বা পেট্রোলচালিত গাড়ির সামগ্রিক করভার ১৩২.৩৬% থেকে বাড়িয়ে ১৫৫.৮৮% করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
সামাজিক সুরক্ষা: ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড
বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে কল্যাণকর অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপনে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির পরিধি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করা হচ্ছে। এই খাতের অধীনে মোট ১ লাখ ৩৮ thousand ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী, যা আগের বছরের তুলনায় অন্তত ১২ হাজার কোটি টাকা বেশি। এর মাধ্যমে উপকারভোগীর সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
বাজেটের প্রধান আটটি চ্যালেঞ্জ
অর্থনৈতিক স্থীতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য ৮টি মূল চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে:
১. উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ।
২. রাজস্ব সংগ্রহের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।
৩. চলমান কৃচ্ছ্রসাধন নীতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসা।
৪. গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারে প্রয়োজনীয় ভর্তুকির চাহিদা মেটানো।
৫. উন্নয়ন প্রকল্প (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি বৃদ্ধি করা।
৬. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বৈদেশিক অর্থায়নের প্রকল্প গ্রহণের হার বাড়ানো।
৭. অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা।
۸. ঋণ ধারণ সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ঋণের স্থিতিশীলতা রক্ষা।





















