০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশি বিনিয়োগ আনতে নতুন প্রণোদনা: ১.৫% কমিশন দেওয়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রবাহ বাড়াতে এক যুগান্তকারী প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এখন থেকে কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক দেশে বিনিয়োগ নিয়ে এলে, তাঁকে মোট বিনিয়োগের ওপর ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে ইনসেনটিভ বা কমিশন দেওয়া হবে।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সরকারের নতুন কৌশল

অধিবেশনে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির কৌশল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই ইনসেনটিভ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

  • কমিশন সুবিধা: বিদেশ থেকে কোনো বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক বিনিয়োগ আনতে পারলে তাঁকে মোট বিনিয়োগের ১.৫ শতাংশ কমিশন দেওয়া হবে।
  • প্রত্যাশিত ফল: এর ফলে বিদেশে বসবাসরত দক্ষ ও প্রভাবশালী বাংলাদেশিরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
  • দেশীয় বিনিয়োগে উৎসাহ: সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু বিদেশি বিনিয়োগ নয়, দেশীয় বিনিয়োগকেও সমানভাবে উৎসাহিত করতে চায়। এ লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ (ডিরেগুলেশন) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

৬ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ তহবিল

অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া একটি বিশেষ পদক্ষেপের কথাও সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

  • তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করেছে।
  • যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে যাদের ক্রেডিবিলিটি বা বাজারে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাদের এই তহবিল থেকে মাত্র ৯ শতাংশ সুদে ঋণ সহযোগিতা দেওয়া হবে।

মুনাফা প্রত্যর্পণ ও সুদের হার কমানো

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের একটি বড় দুশ্চিন্তা হলো অর্জিত মুনাফা নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া (প্রফিট রিপ্যাট্রিয়েশন)।

  • সংসদ সদস্য বেগম জহরত আবির আদিব চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, মুনাফা ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি বাধাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
  • এছাড়া বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো নিয়ে তিনি বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সুদের হার কমানো যদি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে, তবে সরকার সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

‘অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সময় প্রয়োজন’

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম সাবিকুন্ নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে বিগত সরকারের আমলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “স্বৈরাচারের সময় এই দেশে কী হয়েছে, তা সবাই জানেন। অর্থনীতি এমন একটি বিষয়, যার ফল একদিনে পাওয়া যায় না।”

  • তিনি আরও যোগ করেন, “খারাপ পলিসির প্রভাব যেমন ধীরে ধীরে আমাদের কাঁধে এসে পড়েছে, ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকারের নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর সুফল পেতেও দেশবাসীকে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।”

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৯:১৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
৫৩ Time View

বিদেশি বিনিয়োগ আনতে নতুন প্রণোদনা: ১.৫% কমিশন দেওয়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

Update Time : ০৯:১৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রবাহ বাড়াতে এক যুগান্তকারী প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এখন থেকে কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক দেশে বিনিয়োগ নিয়ে এলে, তাঁকে মোট বিনিয়োগের ওপর ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে ইনসেনটিভ বা কমিশন দেওয়া হবে।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সরকারের নতুন কৌশল

অধিবেশনে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির কৌশল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই ইনসেনটিভ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

  • কমিশন সুবিধা: বিদেশ থেকে কোনো বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক বিনিয়োগ আনতে পারলে তাঁকে মোট বিনিয়োগের ১.৫ শতাংশ কমিশন দেওয়া হবে।
  • প্রত্যাশিত ফল: এর ফলে বিদেশে বসবাসরত দক্ষ ও প্রভাবশালী বাংলাদেশিরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
  • দেশীয় বিনিয়োগে উৎসাহ: সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু বিদেশি বিনিয়োগ নয়, দেশীয় বিনিয়োগকেও সমানভাবে উৎসাহিত করতে চায়। এ লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ (ডিরেগুলেশন) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

৬ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ তহবিল

অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া একটি বিশেষ পদক্ষেপের কথাও সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

  • তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করেছে।
  • যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে যাদের ক্রেডিবিলিটি বা বাজারে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাদের এই তহবিল থেকে মাত্র ৯ শতাংশ সুদে ঋণ সহযোগিতা দেওয়া হবে।

মুনাফা প্রত্যর্পণ ও সুদের হার কমানো

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের একটি বড় দুশ্চিন্তা হলো অর্জিত মুনাফা নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া (প্রফিট রিপ্যাট্রিয়েশন)।

  • সংসদ সদস্য বেগম জহরত আবির আদিব চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, মুনাফা ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি বাধাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
  • এছাড়া বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো নিয়ে তিনি বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সুদের হার কমানো যদি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে, তবে সরকার সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

‘অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সময় প্রয়োজন’

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম সাবিকুন্ নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে বিগত সরকারের আমলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “স্বৈরাচারের সময় এই দেশে কী হয়েছে, তা সবাই জানেন। অর্থনীতি এমন একটি বিষয়, যার ফল একদিনে পাওয়া যায় না।”

  • তিনি আরও যোগ করেন, “খারাপ পলিসির প্রভাব যেমন ধীরে ধীরে আমাদের কাঁধে এসে পড়েছে, ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকারের নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর সুফল পেতেও দেশবাসীকে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।”