০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সব নাগরিক পাবেন ‘ই-হেলথ কার্ড’: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং দেশব্যাপী ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য নুরুন্নেসা সিদ্দিকার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই তথ্য জানান।

ই-হেলথ কার্ড ও ডিজিটাল ডাটাবেজ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সব নাগরিকের হাতে ই-হেলথ কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • ডিজিটাল হেলথ আইডি চালুর মাধ্যমে এই ই-হেলথ কার্ড প্রদান করা হবে, যার ফলে দেশব্যাপী একটি শক্তিশালী ‘জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্য ডাটাবেজ’ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
  • সুবিধা: মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের ফলে একই ওষুধের পুনরাবৃত্তি রোধ হবে, চিকিৎসকদের দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা মিলবে এবং রোগীদের অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। সর্বোপরি এটি একটি দক্ষ, নিরাপদ ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ ও এক লাখ নিয়োগ

নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

  • তিনি বলেন, এই লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
  • এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট কাটাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিশাল পরিকল্পনার কথাও সংসদে তুলে ধরেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের অন্যান্য মেগাপরিকল্পনা

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকারের নেওয়া অন্যান্য কার্যকর উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে:

  • দেশের প্রতিটি জেলায় আধুনিক মাধ্যমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক জাতীয় ই-প্রেসক্রিপশন ও প্রেসক্রিপশন অডিট ব্যবস্থা চালু করা।
  • জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও দেশব্যাপী জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক গঠন।
  • প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (PPP) সম্প্রসারণ।
  • স্বাস্থ্য খাতের জবাবদিহি ও মান নিশ্চিতে ‘জাতীয় অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল’ গঠন এবং চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন।

প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দিতে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্গম অঞ্চলে বিনামূল্যে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলস কাজ করছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৯:১৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
৫৪ Time View

২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সব নাগরিক পাবেন ‘ই-হেলথ কার্ড’: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Update Time : ০৯:১৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং দেশব্যাপী ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য নুরুন্নেসা সিদ্দিকার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই তথ্য জানান।

ই-হেলথ কার্ড ও ডিজিটাল ডাটাবেজ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সব নাগরিকের হাতে ই-হেলথ কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • ডিজিটাল হেলথ আইডি চালুর মাধ্যমে এই ই-হেলথ কার্ড প্রদান করা হবে, যার ফলে দেশব্যাপী একটি শক্তিশালী ‘জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্য ডাটাবেজ’ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
  • সুবিধা: মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের ফলে একই ওষুধের পুনরাবৃত্তি রোধ হবে, চিকিৎসকদের দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা মিলবে এবং রোগীদের অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। সর্বোপরি এটি একটি দক্ষ, নিরাপদ ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ ও এক লাখ নিয়োগ

নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

  • তিনি বলেন, এই লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
  • এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট কাটাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিশাল পরিকল্পনার কথাও সংসদে তুলে ধরেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের অন্যান্য মেগাপরিকল্পনা

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকারের নেওয়া অন্যান্য কার্যকর উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে:

  • দেশের প্রতিটি জেলায় আধুনিক মাধ্যমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক জাতীয় ই-প্রেসক্রিপশন ও প্রেসক্রিপশন অডিট ব্যবস্থা চালু করা।
  • জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও দেশব্যাপী জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক গঠন।
  • প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (PPP) সম্প্রসারণ।
  • স্বাস্থ্য খাতের জবাবদিহি ও মান নিশ্চিতে ‘জাতীয় অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল’ গঠন এবং চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন।

প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দিতে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্গম অঞ্চলে বিনামূল্যে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলস কাজ করছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেন।