০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সবুজ অবকাঠামো নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে’ সবুজ ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন। পরিবেশগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং প্রকল্পের মূল নকশায় টেকসই জ্বালানি ও বর্জ্য শোধনের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার শর্তেই এদিন ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প’টি অনুমোদন দেওয়া হয়।

একনেক সভায় ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একনেকের এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি প্রকল্প অনুমোদনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা ও বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণের লক্ষ্যে বিশাল বাজেটের এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নিচে প্রকল্প ব্যয়ের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো:

খাতের নামবরাদ্দের পরিমাণ (টাকায়)
মোট প্রকল্প ব্যয়৪,১৮৯ কোটি ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার
বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন১,৭২২ কোটি ১৯ লাখ ৮৫ হাজার
প্রকল্প ঋণ ও অনুদান২,৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার

পরিবেশ সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা

প্রকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নকশায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন তিনি:

  • সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: আধুনিক পরিবেশগত মান ও প্রটোকল অনুসরণ করে শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
  • পানি শোধনাগার (ETP) ও পুনর্ব্যবহার: একটি আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি স্থাপন করতে হবে। শোধনের পর সেই পানি যেন পুনরায় কারখানায় বা অন্যান্য কাজে ব্যবহারযোগ্য করা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
  • নকশার ত্রুটি সংশোধন: মূল প্রকল্প প্রস্তাবের ত্রুটিগুলো দূর করে প্রকল্পের নকশায় যাতে কোনো পরিবেশগত ঘাটতি না থাকে, তা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সৌরভিত্তিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাধ্যতামূলক

পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পুরো প্রকল্পে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেন। পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পুরো চীনা শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত সৌর প্যানেল (Solar Panel) স্থাপনের নির্দেশনা দেন তিনি।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, “বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উন্নত পানি শোধন ও পুনর্ব্যবহার সুবিধা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সংযুক্তি সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের শর্তেই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”

বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পরিকল্পনায় অবশ্যই এসব পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পদক্ষেপের প্রতিফলন ঘটাতে হবে বলেও জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৫:১৩:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
৫৮ Time View

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সবুজ অবকাঠামো নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Update Time : ০৫:১৩:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে’ সবুজ ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন। পরিবেশগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং প্রকল্পের মূল নকশায় টেকসই জ্বালানি ও বর্জ্য শোধনের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার শর্তেই এদিন ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প’টি অনুমোদন দেওয়া হয়।

একনেক সভায় ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একনেকের এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি প্রকল্প অনুমোদনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা ও বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণের লক্ষ্যে বিশাল বাজেটের এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নিচে প্রকল্প ব্যয়ের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো:

খাতের নামবরাদ্দের পরিমাণ (টাকায়)
মোট প্রকল্প ব্যয়৪,১৮৯ কোটি ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার
বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন১,৭২২ কোটি ১৯ লাখ ৮৫ হাজার
প্রকল্প ঋণ ও অনুদান২,৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার

পরিবেশ সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা

প্রকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নকশায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন তিনি:

  • সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: আধুনিক পরিবেশগত মান ও প্রটোকল অনুসরণ করে শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
  • পানি শোধনাগার (ETP) ও পুনর্ব্যবহার: একটি আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি স্থাপন করতে হবে। শোধনের পর সেই পানি যেন পুনরায় কারখানায় বা অন্যান্য কাজে ব্যবহারযোগ্য করা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
  • নকশার ত্রুটি সংশোধন: মূল প্রকল্প প্রস্তাবের ত্রুটিগুলো দূর করে প্রকল্পের নকশায় যাতে কোনো পরিবেশগত ঘাটতি না থাকে, তা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সৌরভিত্তিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাধ্যতামূলক

পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পুরো প্রকল্পে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেন। পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পুরো চীনা শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত সৌর প্যানেল (Solar Panel) স্থাপনের নির্দেশনা দেন তিনি।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, “বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উন্নত পানি শোধন ও পুনর্ব্যবহার সুবিধা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সংযুক্তি সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের শর্তেই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”

বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পরিকল্পনায় অবশ্যই এসব পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পদক্ষেপের প্রতিফলন ঘটাতে হবে বলেও জানান তিনি।