সীমান্তে অপরাধ ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা
মিয়ানমার সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনের লক্ষ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
বুধবার জাতীয় সংসদে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মিয়ানমার ও ভারত সীমান্তে বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
- পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
- পাশাপাশি, ভারত সীমান্তের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।
বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ও বিজিবির প্রতিরোধ
সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল মালিকের অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের (BSF) পুশইন ও বিজিবির (BGB) প্রতিরোধের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ৩৬টি পুশইন চেষ্টাকে সফলভাবে প্রতিরোধ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে এ পর্যন্ত পুশইন সংক্রান্ত পরিসংখ্যান:
| পুশইন সংক্রান্ত পদক্ষেপ | সংখ্যা/পরিমাণ |
| বিএসএফ কর্তৃক মোট পুশইন হওয়া ব্যক্তি | ২,৩৬৯ জন |
| সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে | ২,১৭৫ জন |
| বিএসএফের কাছে পুনরায় হস্তান্তর | ১১ জন |
| পুশব্যাক (ফেরত পাঠানো) করা হয়েছে | ১৮৩ জন |
সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির বিশেষ পদক্ষেপ
সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধসহ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে বিজিবি কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপের কথা সংসদে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
- কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ: পুশইন ও চোরাকারবারিদের রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ‘বর্ডার কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ’ গঠন করা হয়েছে।
- জনসচেতনতা ও আইনি ব্যবস্থা: মাইকিংয়ের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে মামলা দায়েরসহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।





















