০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে দ্রুত বাস্তবায়ন হবে ‘তিস্তা মেগা প্রকল্প’: পানিসম্পদমন্ত্রী

বেঙ্গল আই ডেস্ক | লালমনিরহাট

দীর্ঘদিনের অবহেলিত তিস্তাপাড়ের মানুষের জন্য আশার বাণী শোনালেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত ‘তিস্তা মেগা প্রকল্প’।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প ‘তিস্তা ব্যারেজ’ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা জানান।

১৩-১৪ হাজার কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা

পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, তিস্তা নদীকে ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন:

  • প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।
  • এটি সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে এবং দেশি-বিদেশি কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হবে।
  • একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের মাধ্যমে এই কাজ শুরু হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেই এর সার্বিক অগ্রগতি তদারকি করছেন।
  • মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমরা যদি খুব পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ করি এবং পরিকল্পিত ড্রেজিং করি, তাহলে এই অঞ্চলের মানুষকে ইনশাআল্লাহ রক্ষা করতে সক্ষম হবো।”

পাঁচ জেলার দুঃখ ঘুচিয়ে অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার

তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেন জরুরি, তা ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, “তিস্তা শুধু এই অঞ্চলের (লালমনিরহাট, রংপুর) দুঃখ নয়, এটি সারা বাংলাদেশের দুঃখ। এ কাজগুলো দৃশ্যমান করে শেষ করতে হয়তো ২ থেকে ৭ বছর সময় লাগতে পারে। কিন্তু এর যে দীর্ঘমেয়াদি বেনিফিট আসবে, তা পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।”

তিনি আরও বলেন, এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে কৃষি উপকরণ ও কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠবে। এর ফলে বৃহত্তর ৫টি জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ আনন্দে পরিণত হবে।

প্রাথমিক সমীক্ষা শেষ, আনুষ্ঠানিক যাত্রা শিগগিরই

নির্বাচনের আগে এই অঞ্চলের মানুষকে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী জানান:

  • ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষায় একাধিক কমিটি গঠন করে দিয়েছেন।
  • প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা ও সমীকরণের কাজ শেষ হয়েছে।
  • ৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল প্রকল্পটির রূপরেখা তৈরিতে কাজ করছেন এবং আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই এই মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

স্মৃতিচারণ: মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই অঞ্চলের কৃষিতে বিপ্লব ঘটানোর লক্ষ্যে তিস্তা সেচ প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। আজ তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে, ইনশাআল্লাহ।”

শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণে স্থায়ী ব্যবস্থা

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী পরিষ্কার করেন, এই প্রকল্প শুধু নদী শাসন বা ভাঙন রোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শুষ্ক মৌসুমে কীভাবে নদীটিতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা যায়, সেই স্থায়ী ব্যবস্থাও এই মেগা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মতবিনিময় শেষে মন্ত্রী তিস্তা তীরবর্তী নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন। এর আগে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিস্তা মেগা প্রকল্পের কারিগরি দিক নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।

পরিদর্শনকালে পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান ও রোকন উদ্দিন বাবুল এবং লালমনিরহাট ও নীলফামারীর জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৬:০৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
১৯৯ Time View

সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে দ্রুত বাস্তবায়ন হবে ‘তিস্তা মেগা প্রকল্প’: পানিসম্পদমন্ত্রী

Update Time : ০৬:০৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | লালমনিরহাট

দীর্ঘদিনের অবহেলিত তিস্তাপাড়ের মানুষের জন্য আশার বাণী শোনালেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত ‘তিস্তা মেগা প্রকল্প’।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প ‘তিস্তা ব্যারেজ’ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা জানান।

১৩-১৪ হাজার কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা

পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, তিস্তা নদীকে ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন:

  • প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।
  • এটি সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে এবং দেশি-বিদেশি কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হবে।
  • একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের মাধ্যমে এই কাজ শুরু হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেই এর সার্বিক অগ্রগতি তদারকি করছেন।
  • মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমরা যদি খুব পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ করি এবং পরিকল্পিত ড্রেজিং করি, তাহলে এই অঞ্চলের মানুষকে ইনশাআল্লাহ রক্ষা করতে সক্ষম হবো।”

পাঁচ জেলার দুঃখ ঘুচিয়ে অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার

তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেন জরুরি, তা ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, “তিস্তা শুধু এই অঞ্চলের (লালমনিরহাট, রংপুর) দুঃখ নয়, এটি সারা বাংলাদেশের দুঃখ। এ কাজগুলো দৃশ্যমান করে শেষ করতে হয়তো ২ থেকে ৭ বছর সময় লাগতে পারে। কিন্তু এর যে দীর্ঘমেয়াদি বেনিফিট আসবে, তা পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।”

তিনি আরও বলেন, এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে কৃষি উপকরণ ও কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠবে। এর ফলে বৃহত্তর ৫টি জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ আনন্দে পরিণত হবে।

প্রাথমিক সমীক্ষা শেষ, আনুষ্ঠানিক যাত্রা শিগগিরই

নির্বাচনের আগে এই অঞ্চলের মানুষকে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী জানান:

  • ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষায় একাধিক কমিটি গঠন করে দিয়েছেন।
  • প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা ও সমীকরণের কাজ শেষ হয়েছে।
  • ৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল প্রকল্পটির রূপরেখা তৈরিতে কাজ করছেন এবং আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই এই মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

স্মৃতিচারণ: মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই অঞ্চলের কৃষিতে বিপ্লব ঘটানোর লক্ষ্যে তিস্তা সেচ প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। আজ তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে, ইনশাআল্লাহ।”

শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণে স্থায়ী ব্যবস্থা

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী পরিষ্কার করেন, এই প্রকল্প শুধু নদী শাসন বা ভাঙন রোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শুষ্ক মৌসুমে কীভাবে নদীটিতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা যায়, সেই স্থায়ী ব্যবস্থাও এই মেগা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মতবিনিময় শেষে মন্ত্রী তিস্তা তীরবর্তী নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন। এর আগে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিস্তা মেগা প্রকল্পের কারিগরি দিক নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।

পরিদর্শনকালে পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান ও রোকন উদ্দিন বাবুল এবং লালমনিরহাট ও নীলফামারীর জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।