০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমরা বৈধ সরকার, কাউকে খুশি করতে নাচতে হবে না, যখন যেখানে প্রয়োজন যাব’: হুমায়ুন কবির

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

“বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে আমাদের যখন যেখানে যাওয়া প্রয়োজন, আমরা সেখানেই যাব। আমরা কোথায় যাব, সেটা অন্য কেউ নির্ধারণ করে দেবে না। কারণ আমরা বৈধ সরকার, জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার। আমাদের কাউকে খুশি করার জন্য নাচতে হবে না”— প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে এই কড়া মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দেশের পররাষ্ট্রনীতির শক্ত অবস্থান ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

সব বড় শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ বিশ্বের সব বড় অংশীদার দেশের সঙ্গে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

  • শক্তিশালী অবস্থান: ওয়াশিংটন, বেইজিং, ইউরোপ কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ সমতার ভিত্তিতে ভারসাম্য রেখে এগোচ্ছে।
  • জনগণের ম্যান্ডেট: হুমায়ুন কবির বলেন, “এটি সম্ভব হয়েছে কারণ আমরা দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জনগণের বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি। ফলে আমরা এখন শক্ত অবস্থান থেকে কথা বলতে পারি, দর-কষাকষি করতে পারি। গত পনেরো বছরে কোনো সরকার তা পারেনি, কারণ জনগণের আস্থা ও বৈধতা তাদের ছিল না।”
  • ভবিষ্যৎ সফর: দেশের প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার দরকার হলে সেখানেও যাওয়া হবে এবং ভারতের সঙ্গে পরিবেশ অনুকূল হলে ভারতেও সফর করা হবে বলে জানান তিনি।

চীন ও মালয়েশিয়া সফরের কৌশলগত তাৎপর্য প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন দুই দেশের সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা।

  • চীন সফর: চীনকে বাংলাদেশের একটি অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
  • মালয়েশিয়া সফর: মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া সফরের ব্যাপক তাৎপর্য রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের বেশ কিছু কৌশলগত স্বার্থ জড়িত আছে।
  • আসিয়ান ও সিপিটিপিপি: বাংলাদেশ বর্তমানে আসিয়ানের (ASEAN) সদস্যপদের জন্য আবেদন করছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ‘কম্প্রিহেনসিভ অ্যান্ড প্রগ্রেসিভ অ্যাগ্রিমেন্ট ফর ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ’ বা সিপিটিপিপি (CPTPP) বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে।

“আমরা এখন বৈশ্বিক অঙ্গনে একটি সক্রিয় পক্ষ—যে নরম শক্তি (Soft Power), কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নিজের অবস্থানকে প্রভাবশালী করে তুলতে চায়। আমরা সব অংশীজনের সঙ্গে অর্থবহভাবে যুক্ত হব, কিন্তু সবার আগে অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ।” — হুমায়ুন কবির

‘বিমানভর্তি লোক নিয়ে সফরের দিন শেষ’ সরকারি অর্থ ব্যয়ে বর্তমান সরকারের কঠোর ও বিচক্ষণ অবস্থানের কথা জানিয়ে উপদেষ্টা জানান, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ২৭ জন এবং চীন সফরে ২৮ জন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে— যাদের মালয়েশিয়ায় প্রয়োজন, তারা শুধু মালয়েশিয়ায় যাবেন; আর যাদের চীনে প্রয়োজন, তারা চীনে যাবেন। বিমানভর্তি অপ্রয়োজনীয় লোক নিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের সেই পুরনো সময় এখন শেষ। বর্তমান সরকারের আমলে প্রতিটি পয়সা জনগণের স্বার্থে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে খরচ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৬:১০:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
৭৭ Time View

‘আমরা বৈধ সরকার, কাউকে খুশি করতে নাচতে হবে না, যখন যেখানে প্রয়োজন যাব’: হুমায়ুন কবির

Update Time : ০৬:১০:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

“বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে আমাদের যখন যেখানে যাওয়া প্রয়োজন, আমরা সেখানেই যাব। আমরা কোথায় যাব, সেটা অন্য কেউ নির্ধারণ করে দেবে না। কারণ আমরা বৈধ সরকার, জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার। আমাদের কাউকে খুশি করার জন্য নাচতে হবে না”— প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে এই কড়া মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দেশের পররাষ্ট্রনীতির শক্ত অবস্থান ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

সব বড় শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ বিশ্বের সব বড় অংশীদার দেশের সঙ্গে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

  • শক্তিশালী অবস্থান: ওয়াশিংটন, বেইজিং, ইউরোপ কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ সমতার ভিত্তিতে ভারসাম্য রেখে এগোচ্ছে।
  • জনগণের ম্যান্ডেট: হুমায়ুন কবির বলেন, “এটি সম্ভব হয়েছে কারণ আমরা দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জনগণের বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি। ফলে আমরা এখন শক্ত অবস্থান থেকে কথা বলতে পারি, দর-কষাকষি করতে পারি। গত পনেরো বছরে কোনো সরকার তা পারেনি, কারণ জনগণের আস্থা ও বৈধতা তাদের ছিল না।”
  • ভবিষ্যৎ সফর: দেশের প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার দরকার হলে সেখানেও যাওয়া হবে এবং ভারতের সঙ্গে পরিবেশ অনুকূল হলে ভারতেও সফর করা হবে বলে জানান তিনি।

চীন ও মালয়েশিয়া সফরের কৌশলগত তাৎপর্য প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন দুই দেশের সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা।

  • চীন সফর: চীনকে বাংলাদেশের একটি অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
  • মালয়েশিয়া সফর: মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া সফরের ব্যাপক তাৎপর্য রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের বেশ কিছু কৌশলগত স্বার্থ জড়িত আছে।
  • আসিয়ান ও সিপিটিপিপি: বাংলাদেশ বর্তমানে আসিয়ানের (ASEAN) সদস্যপদের জন্য আবেদন করছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ‘কম্প্রিহেনসিভ অ্যান্ড প্রগ্রেসিভ অ্যাগ্রিমেন্ট ফর ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ’ বা সিপিটিপিপি (CPTPP) বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে।

“আমরা এখন বৈশ্বিক অঙ্গনে একটি সক্রিয় পক্ষ—যে নরম শক্তি (Soft Power), কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নিজের অবস্থানকে প্রভাবশালী করে তুলতে চায়। আমরা সব অংশীজনের সঙ্গে অর্থবহভাবে যুক্ত হব, কিন্তু সবার আগে অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ।” — হুমায়ুন কবির

‘বিমানভর্তি লোক নিয়ে সফরের দিন শেষ’ সরকারি অর্থ ব্যয়ে বর্তমান সরকারের কঠোর ও বিচক্ষণ অবস্থানের কথা জানিয়ে উপদেষ্টা জানান, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ২৭ জন এবং চীন সফরে ২৮ জন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে— যাদের মালয়েশিয়ায় প্রয়োজন, তারা শুধু মালয়েশিয়ায় যাবেন; আর যাদের চীনে প্রয়োজন, তারা চীনে যাবেন। বিমানভর্তি অপ্রয়োজনীয় লোক নিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের সেই পুরনো সময় এখন শেষ। বর্তমান সরকারের আমলে প্রতিটি পয়সা জনগণের স্বার্থে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে খরচ করা হবে।