০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেবিল চাপড়ে বিএনপিকর্মীকে ‘খেয়ে’ ফেলার হুমকি এমপি হানজালার, ভিডিও ভাইরাল

বেঙ্গল আই ডেস্ক | মাদারীপুর

মাদারীপুরের শিবচরে একটি স্থানীয় সালিশ বৈঠকে বিচার করতে গিয়ে মেজাজ হারিয়ে এক বিএনপিকর্মীকে রীতিমতো ‘খেয়ে ফেলার’ হুমকি দিয়েছেন মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টেবিল চাপড়ে ধমক দেওয়ার ওই এক মিনিটের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

একনজরে ঘটনার বিস্তারিত:

বিষয়বিবরণ
ঘটনাস্থলচর বাচামারা মৌলভীকান্দি গ্রাম, দত্তপাড়া ইউনিয়ন, শিবচর।
মূল অভিযুক্তসংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা (মাদারীপুর-১)।
ভুক্তভোগীতারা মিয়া (স্থানীয় বিএনপিকর্মী)।
ঘটনার সূত্রপাতএকটি মারামারির ঘটনার সালিশ বৈঠক ও জরিমানাকে কেন্দ্র করে।

সালিশ বৈঠকে কী ঘটেছিল?

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নে একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ ডাকা হয়েছিল। সেখানে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমপি হানজালা।

বৈঠকে একপক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করেন এমপি। এরপরই উপস্থিত লোকজনের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির একপর্যায়ে মেজাজ হারান সংসদ সদস্য। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি উত্তেজিত হয়ে বিএনপিকর্মী তারা মিয়া ও উপস্থিত ব্যক্তিদের ধমক দিচ্ছেন।

ভাইরাল হওয়া এমপির বক্তব্য: “কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন? এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলব। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দেব।”

বৈঠকে উপস্থিত এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিওটি ধারণ করছিলেন। পরে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে দৃশ্যটি সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

ভুক্তভোগী বিএনপিকর্মীর অভিযোগ

ভুক্তভোগী বিএনপিকর্মী তারা মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। বিচার চলাকালে এমপি সাহেবের একতরফা রায়ের প্রতিবাদ করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

  • একতরফা রায়: তারা মিয়ার অভিযোগ, “এমপি সাহেব বিচারের মধ্যে অন্য কাউকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে রায় দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।”
  • অমানবিক জরিমানা: তিনি আরও বলেন, “যাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, তিনি নিতান্তই গরিব এবং অসহায় মানুষ। তার পক্ষে এই জরিমানার অর্থ দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”
  • সালিশের পরিবেশ: তারা মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি আসবেই। বিচারকের দায়িত্ব ধৈর্য সহকারে শোনা। তা না হলে এটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে ঘরোয়া বা একতরফা বিচার হয়ে যায়।

কী বলছেন এমপি হানজালা?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় উঠলে সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা।

তিনি বলেন, “ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। ওরা আমাকে ছাড়া বিচারে বসবেই না বলে জেদ করেছিল, তাই পরে আমি গিয়েছি। সালিশের সময় উভয়পক্ষই কথা বলতেছিল, তর্কে জড়াচ্ছিল। তারা বেশ প্যাঁচাপেঁচি করতেছিল। তখন আমি ধমক দিয়েছি। তবে বিচার কাজটি শেষ পর্যন্ত বেশ সুন্দরভাবেই সমাধান হয়েছে।”

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৭:১০:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
৩২ Time View

টেবিল চাপড়ে বিএনপিকর্মীকে ‘খেয়ে’ ফেলার হুমকি এমপি হানজালার, ভিডিও ভাইরাল

Update Time : ০৭:১০:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | মাদারীপুর

মাদারীপুরের শিবচরে একটি স্থানীয় সালিশ বৈঠকে বিচার করতে গিয়ে মেজাজ হারিয়ে এক বিএনপিকর্মীকে রীতিমতো ‘খেয়ে ফেলার’ হুমকি দিয়েছেন মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টেবিল চাপড়ে ধমক দেওয়ার ওই এক মিনিটের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

একনজরে ঘটনার বিস্তারিত:

বিষয়বিবরণ
ঘটনাস্থলচর বাচামারা মৌলভীকান্দি গ্রাম, দত্তপাড়া ইউনিয়ন, শিবচর।
মূল অভিযুক্তসংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা (মাদারীপুর-১)।
ভুক্তভোগীতারা মিয়া (স্থানীয় বিএনপিকর্মী)।
ঘটনার সূত্রপাতএকটি মারামারির ঘটনার সালিশ বৈঠক ও জরিমানাকে কেন্দ্র করে।

সালিশ বৈঠকে কী ঘটেছিল?

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নে একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ ডাকা হয়েছিল। সেখানে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমপি হানজালা।

বৈঠকে একপক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করেন এমপি। এরপরই উপস্থিত লোকজনের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির একপর্যায়ে মেজাজ হারান সংসদ সদস্য। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি উত্তেজিত হয়ে বিএনপিকর্মী তারা মিয়া ও উপস্থিত ব্যক্তিদের ধমক দিচ্ছেন।

ভাইরাল হওয়া এমপির বক্তব্য: “কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন? এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলব। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দেব।”

বৈঠকে উপস্থিত এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিওটি ধারণ করছিলেন। পরে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে দৃশ্যটি সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

ভুক্তভোগী বিএনপিকর্মীর অভিযোগ

ভুক্তভোগী বিএনপিকর্মী তারা মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। বিচার চলাকালে এমপি সাহেবের একতরফা রায়ের প্রতিবাদ করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

  • একতরফা রায়: তারা মিয়ার অভিযোগ, “এমপি সাহেব বিচারের মধ্যে অন্য কাউকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে রায় দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।”
  • অমানবিক জরিমানা: তিনি আরও বলেন, “যাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, তিনি নিতান্তই গরিব এবং অসহায় মানুষ। তার পক্ষে এই জরিমানার অর্থ দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”
  • সালিশের পরিবেশ: তারা মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি আসবেই। বিচারকের দায়িত্ব ধৈর্য সহকারে শোনা। তা না হলে এটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে ঘরোয়া বা একতরফা বিচার হয়ে যায়।

কী বলছেন এমপি হানজালা?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় উঠলে সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা।

তিনি বলেন, “ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। ওরা আমাকে ছাড়া বিচারে বসবেই না বলে জেদ করেছিল, তাই পরে আমি গিয়েছি। সালিশের সময় উভয়পক্ষই কথা বলতেছিল, তর্কে জড়াচ্ছিল। তারা বেশ প্যাঁচাপেঁচি করতেছিল। তখন আমি ধমক দিয়েছি। তবে বিচার কাজটি শেষ পর্যন্ত বেশ সুন্দরভাবেই সমাধান হয়েছে।”