০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশ’-এর মৃত্যু, মামলা রূপ নিচ্ছে হত্যায়

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

রাজধানীর রামপুরায় নিজ বাসার সামনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা’ পলাশ।

শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্তসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

যেভাবে গুলিবিদ্ধ হন পলাশ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন দুপুরে রামপুরার বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনের বিপরীতে নিজ বাসার কাছেই একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী পলাশকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছোড়ে।

  • চিকিৎসা প্রক্রিয়া: গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে দুই দিন চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত রোববার রাতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

হত্যাচেষ্টা থেকে হত্যা মামলা

হামলার ঘটনার পর পলাশের স্ত্রী মাহমুদা খানম বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছিলেন। পলাশের মৃত্যুর পর এটি এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এজাহারে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পলাশকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর অভিযোগ আনা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনসহ নির্দিষ্ট কয়েকজন সন্ত্রাসীকে আসামি করা হয়।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন:

  • জিসান আহমেদ মন্টিকে (প্রধান আসামি)
  • বাদশা ওরফে গুজা বাদশা ও গলদা বাদশা
  • শান্ত ওরফে পিচ্চি শান্ত
  • সোলাইমান খন্দকার
  • ফারুক ওরফে চাচা ফারুক ও হেবেল
  • মোল্লা জনি ও ফিরোজ মোহাম্মদ মোল্লা
  • পিচ্চি আলামিন ওরফে তোতলা আলামিন এবং সজীব।

গ্রেপ্তার ও পুলিশের তদন্ত

হত্যাকাণ্ডের পর জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে জোরালো অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

  • গ্রেপ্তারকৃতরা: পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের একজন হলেন ইমাম হোসেন, যিনি হামলার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন। পরবর্তীতে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফেরদৌস নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

নেপথ্যে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কোন্দল?

হাতিরঝিল থানা-পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ রাজধানীর একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একটি হত্যা মামলাসহ অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তার নাকি পুরোনো কোনো শত্রুতা কাজ করেছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৬:৫৬:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
৭০ Time View

রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশ’-এর মৃত্যু, মামলা রূপ নিচ্ছে হত্যায়

Update Time : ০৬:৫৬:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

রাজধানীর রামপুরায় নিজ বাসার সামনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা’ পলাশ।

শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্তসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

যেভাবে গুলিবিদ্ধ হন পলাশ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন দুপুরে রামপুরার বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনের বিপরীতে নিজ বাসার কাছেই একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী পলাশকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছোড়ে।

  • চিকিৎসা প্রক্রিয়া: গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে দুই দিন চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত রোববার রাতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

হত্যাচেষ্টা থেকে হত্যা মামলা

হামলার ঘটনার পর পলাশের স্ত্রী মাহমুদা খানম বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছিলেন। পলাশের মৃত্যুর পর এটি এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এজাহারে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পলাশকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর অভিযোগ আনা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনসহ নির্দিষ্ট কয়েকজন সন্ত্রাসীকে আসামি করা হয়।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন:

  • জিসান আহমেদ মন্টিকে (প্রধান আসামি)
  • বাদশা ওরফে গুজা বাদশা ও গলদা বাদশা
  • শান্ত ওরফে পিচ্চি শান্ত
  • সোলাইমান খন্দকার
  • ফারুক ওরফে চাচা ফারুক ও হেবেল
  • মোল্লা জনি ও ফিরোজ মোহাম্মদ মোল্লা
  • পিচ্চি আলামিন ওরফে তোতলা আলামিন এবং সজীব।

গ্রেপ্তার ও পুলিশের তদন্ত

হত্যাকাণ্ডের পর জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে জোরালো অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

  • গ্রেপ্তারকৃতরা: পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের একজন হলেন ইমাম হোসেন, যিনি হামলার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন। পরবর্তীতে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফেরদৌস নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

নেপথ্যে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কোন্দল?

হাতিরঝিল থানা-পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ রাজধানীর একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একটি হত্যা মামলাসহ অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তার নাকি পুরোনো কোনো শত্রুতা কাজ করেছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।