০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ বছর পর রিসোর্টের ‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ ও ‘মুতা বিয়ে’ নিয়ে মুখ খুললেন মামুনুল হক

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর নারায়ণগঞ্জের রয়্যাল রিসোর্টের বহুল আলোচিত ‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ এবং নিজের ‘মুতা বিয়ে’ বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। পুরো ঘটনাকে তিনি ‘ফ্যাসিবাদী হাসিনার ব্যর্থ প্রজেক্ট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, এর মাধ্যমে তাকে রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

শনিবার (২০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা জানান।

রিসোর্টে হেনস্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন

মামুনুল হক জানান, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা (ঝর্ণা)-কে নিয়ে রয়্যাল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন।

  • হেনস্তার অভিযোগ: সে সময় পুলিশের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী ও সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের হেনস্তা করে। জোরপূর্বক কক্ষে প্রবেশ করে বিভিন্ন ডিভাইসের মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার শুরু করা হয়।
  • প্রাইভেসি লঙ্ঘন: স্ত্রীকে রক্ষা করতে ওয়াশরুমে রাখলেও, সেখানে নারী পুলিশ গিয়ে লাইভ সম্প্রচার চালান। মামুনুল প্রশ্ন তোলেন, তারা কোনো আইন ভঙ্গ না করলেও কেন পুলিশ তাদের কক্ষে প্রবেশ করে ব্যক্তিগত কল রেকর্ড ফাঁস করেছিল?

‘মুতা বিয়ে’ নয়, ছিল শরিয়তসম্মত বিয়ে

‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ বা ‘মুতা বিয়ে’-এর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে মামুনুল হক জানান, জান্নাত আরার সঙ্গে তার বিয়ে ছিল সম্পূর্ণ শরিয়তসম্মত।

  • বিয়ের প্রেক্ষাপট: জান্নাত আরা আগে তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। পারস্পরিক সম্মতিতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার পর জান্নাত আরার সঙ্গে মামুনুলের যোগাযোগ হয় এবং তিনি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।
  • বিয়ে গোপনের কারণ: উপমহাদেশে একাধিক বিয়ে সামাজিকভাবে জটিল বিষয় হওয়ায় তিনি প্রথম পরিবারে অস্থিরতা তৈরি করতে চাননি। এছাড়া রাষ্ট্রীয় আইনে প্রথম স্ত্রীর অনুমতির বিষয়টিও জটিলতা সৃষ্টি করেছিল।
  • বিচ্ছেদ: তিনি জানান, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ২০২১ সালের ওই ঘটনার পর নানা মনোমালিন্যের কারণে ২০২৫ সালের মার্চে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। তবে কারাবাসকালেও তিনি জান্নাত আরার ভরণপোষণ নিশ্চিত করেছিলেন।

নাম গোপন ও প্রথম স্ত্রীর পরিচয় দেওয়ার কারণ

রিসোর্টে অন্য নাম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন, তার পরিচয়পত্রে প্রথম স্ত্রী আমিনা তাইয়েবার নাম ছিল এবং জান্নাত আরার পরিচয়পত্রে সাবেক স্বামী শহিদুল ইসলামের নাম ছিল। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আলোচনার ভিত্তিতে তারা প্রথম স্ত্রীর নাম ব্যবহার করেছিলেন।

গোয়েন্দা চাপ ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র

ফেসবুক পোস্টে মামুনুল হক অভিযোগ করেন, রিসোর্ট ঘটনার পর তৎকালীন এনএসআই মহাপরিচালক তার সঙ্গে বৈঠক করে হেফাজতে ইসলামের নেতা আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, জান্নাত আরা, তার বাবা এবং সন্তান আব্দুর রহমানকে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। তবে আদালতে আব্দুর রহমান প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরায় তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

‘৫০১’ এখন বিজয়ের প্রতীক

মামুনুল হক জানান, ‘৫০১’ নম্বর কক্ষ তার কাছে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়। বরং এটি ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসরদের পরাজয়ের দলিল’। তিনি ‘৫০১’-কে বিজয়ের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে ভবিষ্যতে এটি উদযাপনের কথা জানিয়েছেন।

দীর্ঘ পোস্টের শেষাংশে তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা আল ইমরানের ৬১ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে ‘মুবাহালা’র (ঐশী চ্যালেঞ্জ) আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তার বক্তব্যকে কেউ মিথ্যা প্রমাণ করতে চাইলে এই চ্যালেঞ্জে অংশ নিতে পারেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৭:২৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
২১৯ Time View

৫ বছর পর রিসোর্টের ‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ ও ‘মুতা বিয়ে’ নিয়ে মুখ খুললেন মামুনুল হক

Update Time : ০৭:২৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | ঢাকা

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর নারায়ণগঞ্জের রয়্যাল রিসোর্টের বহুল আলোচিত ‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ এবং নিজের ‘মুতা বিয়ে’ বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। পুরো ঘটনাকে তিনি ‘ফ্যাসিবাদী হাসিনার ব্যর্থ প্রজেক্ট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, এর মাধ্যমে তাকে রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

শনিবার (২০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা জানান।

রিসোর্টে হেনস্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন

মামুনুল হক জানান, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা (ঝর্ণা)-কে নিয়ে রয়্যাল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন।

  • হেনস্তার অভিযোগ: সে সময় পুলিশের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী ও সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের হেনস্তা করে। জোরপূর্বক কক্ষে প্রবেশ করে বিভিন্ন ডিভাইসের মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার শুরু করা হয়।
  • প্রাইভেসি লঙ্ঘন: স্ত্রীকে রক্ষা করতে ওয়াশরুমে রাখলেও, সেখানে নারী পুলিশ গিয়ে লাইভ সম্প্রচার চালান। মামুনুল প্রশ্ন তোলেন, তারা কোনো আইন ভঙ্গ না করলেও কেন পুলিশ তাদের কক্ষে প্রবেশ করে ব্যক্তিগত কল রেকর্ড ফাঁস করেছিল?

‘মুতা বিয়ে’ নয়, ছিল শরিয়তসম্মত বিয়ে

‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ বা ‘মুতা বিয়ে’-এর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে মামুনুল হক জানান, জান্নাত আরার সঙ্গে তার বিয়ে ছিল সম্পূর্ণ শরিয়তসম্মত।

  • বিয়ের প্রেক্ষাপট: জান্নাত আরা আগে তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। পারস্পরিক সম্মতিতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার পর জান্নাত আরার সঙ্গে মামুনুলের যোগাযোগ হয় এবং তিনি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।
  • বিয়ে গোপনের কারণ: উপমহাদেশে একাধিক বিয়ে সামাজিকভাবে জটিল বিষয় হওয়ায় তিনি প্রথম পরিবারে অস্থিরতা তৈরি করতে চাননি। এছাড়া রাষ্ট্রীয় আইনে প্রথম স্ত্রীর অনুমতির বিষয়টিও জটিলতা সৃষ্টি করেছিল।
  • বিচ্ছেদ: তিনি জানান, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ২০২১ সালের ওই ঘটনার পর নানা মনোমালিন্যের কারণে ২০২৫ সালের মার্চে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। তবে কারাবাসকালেও তিনি জান্নাত আরার ভরণপোষণ নিশ্চিত করেছিলেন।

নাম গোপন ও প্রথম স্ত্রীর পরিচয় দেওয়ার কারণ

রিসোর্টে অন্য নাম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন, তার পরিচয়পত্রে প্রথম স্ত্রী আমিনা তাইয়েবার নাম ছিল এবং জান্নাত আরার পরিচয়পত্রে সাবেক স্বামী শহিদুল ইসলামের নাম ছিল। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আলোচনার ভিত্তিতে তারা প্রথম স্ত্রীর নাম ব্যবহার করেছিলেন।

গোয়েন্দা চাপ ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র

ফেসবুক পোস্টে মামুনুল হক অভিযোগ করেন, রিসোর্ট ঘটনার পর তৎকালীন এনএসআই মহাপরিচালক তার সঙ্গে বৈঠক করে হেফাজতে ইসলামের নেতা আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, জান্নাত আরা, তার বাবা এবং সন্তান আব্দুর রহমানকে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। তবে আদালতে আব্দুর রহমান প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরায় তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

‘৫০১’ এখন বিজয়ের প্রতীক

মামুনুল হক জানান, ‘৫০১’ নম্বর কক্ষ তার কাছে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়। বরং এটি ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসরদের পরাজয়ের দলিল’। তিনি ‘৫০১’-কে বিজয়ের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে ভবিষ্যতে এটি উদযাপনের কথা জানিয়েছেন।

দীর্ঘ পোস্টের শেষাংশে তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা আল ইমরানের ৬১ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে ‘মুবাহালা’র (ঐশী চ্যালেঞ্জ) আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তার বক্তব্যকে কেউ মিথ্যা প্রমাণ করতে চাইলে এই চ্যালেঞ্জে অংশ নিতে পারেন।